
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 14 April 2025 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'অত্যন্ত অসুস্থ, চলছে ক্যানসারের চিকিৎসাও,' মক্কেল সম্পর্কে ঠিক এমনই জানালেন মেহুল চোকসীর আইনজীবী। এখনই ভারতে ফেরানো সম্ভব হবে না, সেনিয়ে তাঁদের তরফে আবেদন করা হবে বলেও জানানো হয়। এখন আইনি পদক্ষেপের অপেক্ষা।
পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের বিপুল ঋণ প্রতারণা মামলায় নাম জড়ায় হীরে ব্যবসায়ী মেহুল চোকসীর (Mehul Choksi)। সেই থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। গ্রেফতার করে বেলজিয়াম পুলিশ। খবর সামনে আসে সোমবার সকালে। স্থানীয় আদালতে তোলার প্রস্তুতি চলছে বর্তমানে, তার মাঝেই তাঁকে ভারতে ফেরাতে তৎপর দিল্লি। এই পরিস্থিতিতে মক্কেলের অবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন আইনজীবী বিজয় অগ্নিহোত্রী। বলেন, 'আমরা গ্রেফতারের বিরুদ্ধে আবেদন করব এবং ভারতের প্রত্যর্পণের অনুরোধেরও বিরোধিতা করব। আমার মক্কেল অত্যন্ত অসুস্থ, তাঁর ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে। তাই আমি আপিল করব আদালতে।'
মেহুলকে ফিরিয়ে দিতে বেলজিয়াম সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিল ভারত সরকার। প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, ভারত এরপর মেহুলকে ফিরিয়ে দেওয়ার আর্জি জানাবে বেলজিয়াম আদালতের কাছে।
পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ১৩,৫০০ কোটি টাকা জালিয়াতিতে নাম জড়ানোর পর দেশ থেকে পালিয়ে বেলজিয়ামে গা ঢাকা দেন মেহুল ও তাঁর স্ত্রী প্রীতি। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক এই মামলায় একাধিক সংস্থার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করে, যার মধ্যে ছিলেন মেহুলের ভাইপো নীরব মোদী এবং গীতাঞ্জলি জেমস নামক সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টরও। অভিযোগ, তাঁরা মুম্বইয়ের ব্র্যাডি হাউস শাখার ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের ঘুষ দিয়ে লেটার অফ আন্ডারটেকিং (LoUs) এবং ফরেন লেটার অফ ক্রেডিট (FLCs) ব্যবহার করে বিদেশি সংস্থার সঙ্গে লেনদেন করেন।
সেই ২০১৮ সাল থেকে মেহুল ও নীরব মোদীকে খুঁজছিল ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI) এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
এদিকে বেলজিয়ামের আগে মেহুল অ্যান্টিগুয়া ও বারবুদায় আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। নাগরিকত্ব নিয়েই সেখানে থাকা শুরু করেছিলেন কিন্তু ২০২১ সালে অ্যান্টিগা থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান, পরে ডোমিনিকায় খুঁজে পাওয়া যায়। গত মাসে বেলজিয়ামের বিদেশ মন্ত্রক নিশ্চিত করে, চোকসী সেখানে রয়েছেন। পালানোর ছক কষছেন সুইৎজারল্যান্ডে। তারপর আজকের এই গ্রেফতারি।
চোকসীর আইনজীবী অগ্নিহোত্রীর দাবি, এটি রাজনৈতিক মামলা। এই নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।
চোকসীকে গ্রেফতারের পর যে সব ছবি-ভিডিও সামনে এসেছে বেলজিয়ামের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে, সেখানে তাঁকে নাকে অক্সিজেন মাস্ক, হাতে স্যালাইন নিয়ে দেখা গেছে। হাঁটার ক্ষমতা নেই, ফলে হুইলচেয়ারে সওয়ার তিনি। ফলে আইনজীবীর দাবি যে একেবারেই অগ্রাহ্য করার মতো, তাও নয়। তাই এই নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে, দিল্লির তরফে পরবর্তী কোন পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটাই এখন দেখার।