
মেহুল চোকসি (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 23 March 2025 13:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাথায় প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার দায়। স্ত্রীর সঙ্গে দিব্যি বেলজিয়ামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মেহুল চোকসি। স্ত্রী প্রীতি সেখানকার নাগরিক ফলে কয়েকবছর ধরে পাঞ্জাাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) কেলেঙ্কারির অন্যতম অভিযুক্ত মেহুল সেখানেই রয়েছেন। এক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেহুলকে ভারতে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে দিল্লি। বেলজিয়াম প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে ১৩ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি দেশ ছাড়ার পর তদন্তকারী সংস্থাগুলি সরাসরি কোনও পদক্ষেপ করতে পারেনি। সিবিআই ও ইডি—উভয় সংস্থাই তাঁকে খুঁজছে।
শেষ কয়েকবছরে কোথায় কোথায় গা ঢাকা দিয়ে থেকেছেন মেহুল?
২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে মেহুল ‘এফ রেসিডেন্সি কার্ড’ ব্যবহার করে বেলজিয়ামে বসবাস শুরু করেন বলে জানা যায়। এই কার্ডের মাধ্যমে অন্য দেশের নাগরিকরা তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ সঙ্গীর সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বেলজিয়ামে থাকতে পারেন।
এর আগে ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র অ্যান্টিগা ও বারবুডায় ছিলেন মেহুল। সেখানকার নাগরিকত্বও রয়েছে তাঁর। তবে ২০২৩ সালে অ্যান্টিগার আদালত নির্দেশ দেয়, তাঁকে সে দেশ থেকে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া যাবে না। ফলে ভারতের প্রত্যর্পণের প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়। কিন্তু এবার মেহুল বেলজিয়ামে চলে যাওয়ায়, তাঁকে ফেরানোর সম্ভাবনা বাড়ছে। তবে তিনি এখনও অ্যান্টিগা ও বারবুডার নাগরিক।
অভিযোগ ওঠে, ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করে বেলজিয়ামে থাকার অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা করেছেন মেহুল। যদি তাঁর সাময়িক অনুমতি স্থায়ী হয়ে যায়, তবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবাধে যাতায়াত করতে পারবেন, যা ভারতের জন্য ফেরানোর কাজকে আরও কঠিন করবে।
কয়েকটি প্রতিবেদনে আবার উল্লেখ করা হয়েছে, মেহুল বর্তমানে চিকিৎসার কারণে সুইৎজারল্যান্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ভারতে প্রত্যর্পণ এড়াতে তিনি শারীরিক অসুস্থতা ও মানবিক দিক তুলে ধরছেন। কিন্তু প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে সেবিষয়টি কতোটা গ্রাহ্য করা হবে, তা সময়ই বলবে।
পিএনবি কেলেঙ্কারি ও মেহুল চোকসি
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পিএনবি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানোর পরই ভারত ছাড়েন তিনি। ২০২৪ সালের মে মাসে মুম্বইয়ের বিশেষ আদালতে দাবি করেন, নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কিছু কারণে তিনি ভারতে ফিরতে পারছেন না, তাই তাঁকে ‘পলাতক আর্থিক প্রতারক’ বলা যায় না।
২০২১ সালে মেহুল রহস্যজনকভাবে অ্যান্টিগা ও বারবুডা থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছিলেন। পরে ডমিনিকায় রয়েছেন বলে খোঁজ পাওয়া যায়। তখন দাবি ওঠে, ভারত সরকার তাঁকে অপহরণ করেছে। তবে পরে সেই অভিযোগ খারিজ হয়ে যায়।
এদিকে মেহুলের ভাগ্নে নীরব মোদীও এই কেলেঙ্কারির অন্যতম অভিযুক্ত এবং তাঁকে ভারতে ফেরানোর জন্য ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আইনি আলোচনা চলছে দিল্লির।