আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আপাতত শুধুমাত্র unsecured assets নিলামে তোলা যাবে, যেগুলি কোনও secured creditor দাবি করেননি।

মেহুল চোকসি
শেষ আপডেট: 9 November 2025 13:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি)–এর প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি মামলার মূল অভিযুক্ত মেহুল চোকসির (Mehul Choksi) সঙ্গে যুক্ত ১৩টি সম্পত্তি নিলামে তোলার নির্দেশ দিল মুম্বইয়ের একটি বিশেষ আদালত। আদালত জানিয়েছে, এই নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিশেষ আদালতের নামে স্থায়ী আমানত (Fixed Deposit) হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে।
আদালতের ৪ নভেম্বরের নির্দেশ অনুযায়ী, গীতাঞ্জলি জেমস লিমিটেড (Gitanjali Gems Ltd)–এর এই সম্পত্তিগুলির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে— বোরিভলির চারটি ফ্ল্যাট (মূল্য প্রায় ২.৬ কোটি), বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সের ভারত ডায়মন্ড বোরস ভবনের একটি বাণিজ্যিক ইউনিট এবং ১৪টি গাড়ি রাখার পার্কিং স্পেস (মূল্য প্রায় ১৯.৭ কোটি), গুরগাঁও ইস্টে ছয়টি শিল্প গালা এবং উদ্যোগ নগরে আরও একটি গালা। এছাড়া, জয়পুরের কারখানায় থাকা রূপার ইট, আধা-মূল্যবান পাথর এবং মেশিনও রয়েছে এই তালিকায়। এই সম্পত্তিগুলির মূল্যায়ন ২০১৮ সালে করা হয়েছিল।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আপাতত শুধুমাত্র unsecured assets নিলামে তোলা যাবে, যেগুলি কোনও secured creditor দাবি করেননি। তবে, নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থের মালিকানা ও বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে মামলার রায় ঘোষণার পরেই।
আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, “গীতাঞ্জলি জেমস ও সংশ্লিষ্ট লিকুইডেটররা নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কে বিশেষ আদালতের নামে স্থায়ী আমানত হিসাবে জমা রাখবেন। নিলামের খরচ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ আদালতের পক্ষে এফডি আকারে সংরক্ষিত থাকবে।”
উল্লেখ্য, গীতাঞ্জলি জেমস লিমিটেডই পিএনবি কেলেঙ্কারিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) তদন্তের অন্যতম মূল সংস্থা। মেহুল চোকসি ইতিমধ্যেই ‘ফিউজিটিভ ইকনমিক অফেন্ডার’ বা পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী হিসেবে ঘোষিত।
সম্প্রতি বেলজিয়ামের একটি আদালত চোকসির ভারতে প্রত্যর্পণের অনুমতি দিয়েছে। আদালতের মতে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি যথেষ্ট গুরুতর— যেমন অপরাধচক্রে অংশগ্রহণ, জালিয়াতি, দুর্নীতি এবং জাল নথি ব্যবহার। যদিও ভারতীয় দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় থাকা ‘প্রমাণ নষ্ট করার’ অভিযোগটি বেলজিয়ামে স্বীকৃত নয়, তাই সেই নির্দিষ্ট ধারায় প্রত্যর্পণ অনুমোদিত হবে না বলে আদালত জানিয়েছে।
তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে চোকসি ইতিমধ্যেই বেলজিয়ামের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন।
বস্তুত, ২০১৮ সালে প্রথম পিএনবি কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে এসেছিল। সেই মামলায় মেহুল, নীরব ছাড়াও নাম জড়ায় পিএনবি-র কিছু কর্মী ও কর্তার। শোরগোল পড়ে গোটা দেশে। কী ভাবে কেলেঙ্কারি হয়েছিল? অভিযোগ, ব্যাঙ্কেরই কয়েক জন কর্মীর সাহায্যে ব্যাঙ্কের কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করেন নীরব এবং তাঁর মামা মেহুল। অপরাধটি হয়েছিল মুম্বই কোর্টে অবস্থিত পিএনবি-র ব্র্যাডি হাউস শাখায়।
সেখান থেকেই বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার নামে ভুয়ো ‘লেটার অফ আন্ডারটেকিং (এলওইউ)’ জারি করে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছিল! কোনও বিদেশি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য ভারতীয় কোনও ব্যাঙ্কের এলওইউ জারি করা প্রয়োজন ছিল।