Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশু

রোলস রয়েস কিনতে গিয়ে অপমানিত লন্ডনে, বদলা নিতে সমস্ত গাড়ি ময়লা ফেলার কাজে লাগান এই মহারাজ

লন্ডনের মেফেয়ারে রোলস রয়েসের শোরুমে ঢোকার আগে অবশ্য এই রাজসিক বোলচাল বাইরেই রেখে এসেছিলেন আলোয়ার-রাজ। ছাপোষা চোগা-চাপকান পরে যখন দামি গাড়ির রূপ-জৌলুস দু’চোখ ভরে উপভোগ করছেন, ঠিক তখনই এগিয়ে আসেন দোকানের এক কর্মী।

রোলস রয়েস কিনতে গিয়ে অপমানিত লন্ডনে, বদলা নিতে সমস্ত গাড়ি ময়লা ফেলার কাজে লাগান এই মহারাজ

মহারাজ জয়সিংহ প্রভাকর

শেষ আপডেট: 6 February 2025 13:31

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের আলোয়ারের মহারাজ জয়সিংহ প্রভাকর। যেমন রাজকীয় ঠাটবাট, পুরো নামটাও তেমনই গুরুগম্ভীর: কর্নেল এইচএইচ রাজ রাজেশ্বর ভারত ধর্ম প্রভাকর মহারাজ শ্রী সোয়াই স্যার জয়সিংজি বীরেন্দ্র শিরোমণি দেব বাহাদুর।

লন্ডনের মেফেয়ারে রোলস রয়েসের শোরুমে ঢোকার আগে অবশ্য এই রাজসিক বোলচাল বাইরেই রেখে এসেছিলেন আলোয়ার-রাজ। ছাপোষা চোগা-চাপকান পরে যখন দামি গাড়ির রূপ-জৌলুস দু’চোখ ভরে উপভোগ করছেন, ঠিক তখনই এগিয়ে আসেন দোকানের এক কর্মী। পরাধীন ভারতের কালো চামড়ার এক ব্যক্তি, যার অওকাত নেই গাড়ি কেনার, সে গাড়ির সৌন্দর্য তারিয়ে তারিয়ে দেখবে--এই বিষয়টা আত্মগর্বী শ্বেতাঙ্গের কাছে বেশ বেমানান ও অনৈতিক বলে মনে হয়েছিল। তাই তিনি বিনা বাক্যব্যয়ে মহারাজের নাম-পরিচয়টুকু না জেনেই তাঁকে দোকান থেকে বেরোনোর নির্দেশ দেন। আত্মপরিচয়ে দু’চারকথা বলে চেয়েছিলেন জয়সিংহ প্রভাকর। কিন্তু মুখের কথা শেষ হতে না হতেই তাঁকে অর্ধচন্দ্র খেতে হয়।

দোকান থেকে বেরিয়ে আসেন ঠিকই। কিন্তু চোখের জল ফেলতে ফেলতে নয়, রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে। ব্যাগ ছিল সঙ্গে। সেখানেই রাখা ছিল রাজার বেশ, রাজার ভূষণ। গায়ে গলাতে যতটুকু সময় লাগে! রত্নখচিত অলংকার, গায়ে শোভমান দামি কোট-জ্যাকেট পরে চকিতে শোরুমে ঢুকে পড়েন তিনি। আর দেখামাত্র আঁতকে ওঠে সাদা চামড়ার কর্মীটি! ব্যাপারটা কী হল বোঝার আগেই মহারাজ ঘোষণা করেন: এই মুহূর্তে খান দশেক রোলস রয়েস কিনতে চান। ছ’টি চাই হাতে-হাতে। এক্ষুনি। আর বাকি চারখানা পাঠাতে হবে তাঁর দেশ, ভারতে। এই রইল ঠিকানা। বলে মহারাজ আলোয়ার প্রাসাদের নাম ও অন্যান্য তথ্য কাগজে লিখে দেন।

এতদূর পর্যন্ত হলে তবু ঠিক ছিল। একজন জাত্যভিমানী মহারাজের অহংবোধ খর্ব হওয়া ও নিজের দর্প প্রতিষ্ঠার ঘটনা হিসেবে বিষয়টিকে সহজেই দেখা যেত। কিন্তু ‘প্রতিশোধে’র বৃত্ত যেন তখনও পূরণ হয়নি। মেটেনি ক্রোধ। তাই দেশে ফিরে মনের মতো উপসংহারটুকু নিজের হাতে লিখে দেন মহারাজ। একটি ছোট্ট খবর পাঠান মিউনিসিপ্যালিটির কাছে। খবরটা ছিল এই: আলওয়ার শহরের আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য বড় গাড়ি প্রয়োজন নিশ্চয়! তবে তার জন্য চিন্তা করতে হবে না। তাঁর গ্যারেজে দশটি মজবুত গাড়ি রয়েছে। যেগুলি নির্দ্বিধায় এই কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্রেফ কথার কথা ছিল না। তাঁর ঠিকানায় দশটি রোলস রয়েস এসে পৌঁছনোমাত্র সবকটি গাড়িকেই নোংরা, আবর্জনা নিয়ে যাওয়ার গাড়িতে পরিণত করেছিলেন মহারাজ জয়সিংহ প্রভাকর। নিজেদের ব্র্যান্ডের সুনাম বাঁচাতে রাতের ঘুম উড়ে গেছিল রোলস রয়েস কর্তৃপক্ষের। চিঠি লিখে ক্ষমা প্রার্থনা করেও নিস্তার পায়নি তারা। রাগ কমেনি মহারাজের। শেষমেশ লন্ডন থেকে এসেছিল সাতটি দামি গাড়ি বিনামূল্যে পাঠানোর প্রস্তাব। আলোয়ার-রাজ সে যৌতুক গ্রহণ করেননি। কিন্তু অবশেষে ঠান্ডা হয়েছিলেন।

এত বিত্তবৈভব যদিও তিনি চিরদিন ধরে রাখতে পারেননি। শেষপর্যন্ত ব্রিটিশদেরই পদানত হতে হয়েছিল। লাগামছাড়া অর্থব্যয়ের জেরে রাজত্ব তুলে দিয়েছিলেন শ্বেতাঙ্গ শাসকের হাতে। জুটেছিল ১৭ বছর নির্বাসনের দণ্ডাদেশ। কিন্তু তার মেয়াদশেষের আগেই, ১৯৩৭ সালে, প্যারিসে মারা যান মহারাজ জয়সিংহ।

যদিও ইতিহাস তাঁকে সাদা-কালোর ছকে মনে রাখেনি। আলোয়ারের মহারাজ বাগ্মী হিসেবে কুড়িয়েছিলেন প্রশংসা। প্রথম গোলটেবিল বৈঠকে তাঁর বক্তব্য এখনও রাজনীতির আলিন্দে চর্চিত হয়। লেখক হিসেবেও তিনি একই ধরনের খ্যাতি অর্জন করেন। স্বাধীন ভারতের বিশিষ্ট বিদেশ সচিব রাজেশ্বর দয়াল তাঁর স্মৃতিকথায় মহারাজ জয় সিংহকে তাঁর দেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ বক্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এডউইন মন্টেগু, যিনি ব্রিটিশ জমানায় বিদেশমন্ত্রীর পদে ছিলেন, তিনি জয়সিংহকে তার দেখা ‘সবচেয়ে বিশিষ্ট ভারতীয়’র মর্যাদা দেন।

সাকুল্যে ৩০ বছর রাজ্যশাসন করেন জয়সিংহ। এই সময়কালে তিনি ‘উলোয়ার’ বদলে রাজত্বের নাম রাখেন ‘আলোয়ার’। যাতে বর্ণমালার উপরের ক্রমে উঠে রাজ্যটি তার স্বকীয় খ্যাতি ও গরিমা বজায় রাখতে পারে। শুষ্ক, খরাপ্রবণ অঞ্চলে চাষ-আবাদে বিপ্লব আনতে তিনি কৃষিক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনও ঘটিয়েছিলেন। স্বাস্থ্য-পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থাও আগের চেয়ে উন্নততর হয়। ইতিহাসের ধূসর খাতায় এর খতিয়ান লেখা থাকলেও লোকশ্রুতিতে তিনি আজও এক জাতিদর্পী রাজা, যাঁর কাছে অর্থ নিছকই গরিমা ও কৌলীন্য প্রদর্শনের মাধ্যম মাত্র! যিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি রেলগাড়ি বুক করে আস্তাবলের ঘোড়াকে মুম্বই পাঠান। যেখানে তাকে রাখার ব্যবস্থা হয় বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে।


```