
শেষ আপডেট: 4 November 2023 18:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি ডাকসাইটে সুন্দরী। সফল ব্যবসায়ী। ফ্য়াশনিস্তা। বলিউড সুন্দরীদের সঙ্গে নিত্য ওঠাবসা তাঁর। ব্যবসাও সামলান দক্ষতার সঙ্গে। মেট গালায় তাঁর রূপের ঝলক দেখলে মুগ্ধ হতে হয়। আবার স্যুট-টাই পরে দুঁদে বিজনেস ডেবিগেটসেরও সঙ্গে ডিল করতেও তিনি স্বচ্ছন্দ। ভারতের প্রভাবশালী ও ধনী মহিলাদের মধ্যে একজন সেরাম ইনস্টিটিউটের কর্ণধার আদর পুনাওয়ালার স্ত্রী নাতাশা। তাঁর বিলাসব্যহুল লাইফস্টাইল পেছনে ফেলবে আম্বানীদেরও।
নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টসে প্রতি বছর জড়ো হন হাজার হাজার তারকা। দেশ-বিদেশ থেকে সেখানো যান এই রকমারি পোশাকে ঝলমলে সেই উদ্যাপনে যোগ দিতে। মেট গালায় কে কী পরলেন, তা নিয়ে চর্চা চলে সারা বছর ধরে। কার পোশাক কত অদ্ভূত, কত জোড়া চোখ টানল— তা-ও হয়ে ওঠে চর্চার বিষয়। ২০২২ সালে মেট গালায় নাতাশা পুণাওয়ালার আউটফিট চমকে দিয়েছিল সকলকে। সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের ডিজাইন করা শাড়ি পরেছিলেন নাতাশা। সোনালি রঙের সেই শাড়ির সঙ্গে মেটালের একটি বাস্টিয়ার পরেছিলেন। সব মিলে যেন মনে হচ্ছিল প্রাচীন গ্রিসের কোনও রানি। ব্যবসায়ী নাতাশার ফ্যাশনেও যে অপার জ্ঞান তা সেদিনই স্পষ্ট হয়েছিল।
কিংফিশারের সোনার সময়ে বিজয় মাল্যের বর্ষশেষের পার্টিতে গোয়ায় আদরের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল নাতাশার। এখন তিনি জীবনসঙ্গিনী। অনেকেই বলেন, কর্পোরেট মহলের এই ডাকসাইটে সুন্দরী নাকি আদারের প্রেরণা। সেরা বন্ধুও। আদরের দাবি, নাতাশা তাঁর জীবন বদলে দিয়েছেন। মায়ের মৃত্যুর পরে সামাজিক সেবামূলক কাজে আদরের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে এসেছেন নাতাশাও। পুণেয় ‘স্বচ্ছ ভারতের’ ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর আদর। পাখির চোখ, প্রতিদিন ১.২ কোটি জনের জন্য পরিস্রুত পানীয় জলের সরবরাহ করা। এই কাজে আদরকে সাহায্য করেন নাতাশাও।
ভিল্লু পুনাওয়ালা ফাউন্ডেশনের বর্তমান কর্ণধার নাতাশাই। নেদারল্যান্ডসে পুনাওয়ালা সায়েন্স পার্কেরও তিনি পরিচালক। ভিল্লু পুনাওয়াল্লা রেসিং অ্যান্ড ব্রিডিং প্রাইভেট লিমিটেডের দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই। এই ভিল্লু পুনাওয়ালা ফাউন্ডেশন সমাজের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়াদের শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে। গরিব ছেলেমেয়েদের পোশাক দেওয়া থেকে তাদের শিক্ষার ব্যয়ভার সামলায় এই সংস্থা।

পুণেতে জন্ম নাতাশার ১৯৮১ সালে। বাবা প্রমেশ অরোরা ও মা মিনি অরোরা। বড় ভাই আছে অমিত। পুণেতেই পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠা। সেন্ট মেরি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষার পর সাবিত্রীবাই ফুলে পুণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতন হন। ২০০৪ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স থেকে স্নাতকোত্তর করেন। ২০০৬ সালে আদর পুনাওয়ালার সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েন তিনি।
মুম্বই ও পুণেতে দুটি বাড়ি আছে আদর ও নাতাশা পুনাওয়ালা। বাড়ি ঠিক নয় আক্ষরিক অর্থে প্রাসাদ। পুণেয় তাঁর ফার্ম হাউসে কমলা রঙের ইটালিয়ান মার্বেলের মেঝে। দেওয়ালে ভ্যান গঘ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কিংবদন্তি শিল্পীর দুর্মূল্য ছবি। বাড়িতে লাগানো অধিকাংশ তাকলাগানো ঝাড়বাতি পড়তি অবস্থার রাজা-মহারাজার কাছে কেনা। মুম্বইয়ে যে ৫০ হাজার বর্গ ফুটের বাড়ি পুনাওয়ালারা কিনেছেন, আগে তা ছিল ওই শহরে মার্কিন কনসুলেট। তারও আগে এক রাজার প্রাসাদ। শোনা যায়, আইনি জটের পাশাপাশি ওই বাড়ি হাতে পেতে প্রবল পরাক্রমী মুকেশ অাম্বানীদের সঙ্গেও নাকি পাঞ্জা কষতে হয়েছিল তাঁদের। লম্বা ছুটিতে তাঁর পছন্দ ফ্রান্স, ইতালির লাগোয়া সমুদ্রে ইয়টে ভেসে বেড়ানো। বাড়ির বেসমেন্টে রয়েছে বোয়িং, ফাইটার জেটের সিমুলেটর। ছুটি কাটাতে যাওয়ার জন্য পছন্দের বাহন গাল্ফস্ট্রিম প্রাইভেট জেট।
ফ্যাশন আইকন নাতাশার ওঠাবসা হলিউডেও। সেখানেও তাঁর রূপ ও গুণের চর্চা হয়। অনেকেই বলেন, নাতাশার লাইফস্টাইল পেছনে ফেলে দেবে আম্বানীদেরও।