
অভিযুক্ত মুসকান ও সাহিল।
শেষ আপডেট: 21 March 2025 07:56
জানা গেছে ওই দিন, মুসকান ছলচাতুরি করে স্বামীর খাবারে ড্রাগ মিশিয়ে দেয়। সৌরভ অচেতন হয়ে যাওয়ার পর, মুসকানের সাহায্যে একটি ধারালো মাংস কাটার ছুরি দিয়ে সৌরভের বুকে বসিয়ে দেয় সাহিল। পরে তারা তার গলা কেটে দেয় ও হাত কেটে ফেলে।
খুনের পরে সারা রাত দেহটি ঘরেই রেখে দেয় অভিযুক্তরা। পরের দিন সাহিল সৌরভের বিচ্ছিন্ন হাত সঙ্গে নিয়ে চলে যায়, আর দেহের বাকি অংশ সিমেন্ট ও কংক্রিট দিয়ে ড্রামের ভেতরে ঢেলে সিল করে ফেলে মুসকান।
এভাবে সবকিছু নিশ্চিন্ত মনে রেখে মুসকান ও সাহিল এক সপ্তাহের জন্য মানালি, কসোল ও শিমলায় ঘুরতে চলে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সৌরভের ভাই বাবলু ১৮ মার্চ তার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানান। মুসকানের কথাবার্তায় অসঙ্গতি দেখে সন্দেহ বাড়তে থাকে। তদন্তে জানা যায়, সৌরভ আসলে লন্ডনের এক বেকারিতে কাজ করতেন, যদিও পরিবারের কাছে তিনি নিজেকে মার্চেন্ট নেভির সদস্য বলে পরিচয় দিতেন।
মুসকান ও সাহিল ফিরে এলে, তারা মুসকানের বাবা-মায়ের কাছে টাকা চাইতে গেলে সন্দেহ আরও বাড়ে। পুলিশের জেরার মুখে তারা শেষমেশ খুনের কথা স্বীকার করে। এরপর পুলিশ সিমেন্টভর্তি ড্রাম থেকে সৌরভের দেহ উদ্ধার করে এবং খুনে ব্যবহৃত ছুরি ও রেজারও বাজেয়াপ্ত করে।
এই ঘটনায় মুসকানের বাবা প্রদীপ রাস্তোগি ও মা কবিতা রাস্তোগি মেয়ের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কবিতা বলেন, ‘সৌরভ ওকে খুবই ভালবাসত। ও কোটিপতি বাবার সম্পত্তি ছেড়ে মুসকানের সঙ্গে ছিল। অথচ মুসকান ওর প্রেমিক সাহিলের সঙ্গে ড্রাগে আসক্ত হয়ে গেল। এই নিষ্ঠুর অপরাধে ওদের ফাঁসি হওয়া উচিত।’
বাবা প্রদীপ রাস্তোগি বলেন, ‘‘মুসকান বেঁচে থাকার অধিকার হারিয়েছে। যারা এমন জঘন্য অপরাধ করে, তারা সমাজের জন্য বিপজ্জনক।’