
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 March 2025 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেমিক সাহিলের (Sahil Shukla) সঙ্গে চক্রান্ত করে স্বামী সৌরভকে খুন করে ড্রামে ভরে রেখেছিলেন মুসকান (Muskaan Rastogi)। মীরাটের (Meerut Murder Case) এই ঘটনা চমকে দিয়েছে দেশকে। আরও চমকানোর বিষয়, স্বামীকে খুনের পর ১৫ টুকরো করেছিলেন তারা। তারপর চলে গেছিলেন হিমাচলে ঘুরতে! দেহ লোপাটের পোক্ত পরিকল্পনাও করেছিলেন মুসকান এবং সাহিল। কিন্তু মাত্র দুটি ভুলে সব ফাঁস হয়ে যায়। ঘটনার তদন্তে উঠে এল নতুন তথ্য।
প্লাস্টিকের ড্রামে সৌরভের ১৫ টুকরো করা মৃতদেহ রেখে সিমেন্ট দিয়ে দিয়েছিলেন মুসকান। তারপর তা সম্পূর্ণভাবে ঢাকনা দিয়ে বন্ধ করে সাহিলের সঙ্গে চলে গেছিলেন হিমাচল প্রদেশে। পরিকল্পনা ছিল, ঘুরে এসে সৌরভের দেহ লোপাট করে দেবেন তারা। দু-সপ্তাহের জন্য হিমাচলে গেছিলেন তারা। আর এটাই তাদের প্রথম ভুল।
মুসকানের বাড়িতেই দু-সপ্তাহ ধরে সিমেন্ট ভর্তি ড্রামে দেহাংশ পড়েছিল। এত লম্বা সময়ে থাকার কারণে তা অত্যাধিক ভারী হয়ে যায়। তার ওপর টুকরোগুলি পচেও গেছিল। ফলে দুর্গন্ধ বেরতে শুরু করেছিল। হিমাচল থেকে ফিরে আসার পর দ্বিতীয় ভুলটি করে ফেলেন মুসকানরা। ড্রামটি নিজেরা তুলতে গিয়ে পারেননি, ফলে কয়েকজন শ্রমিককে ডেকেছিলেন তারা। তবে ড্রামটির ওজন সম্পর্কে তখনও কারও ধারণা স্পষ্ট ছিল না। ফলত, ওই কয়েকজন শ্রমিকও ড্রামটি তুলতে পারছিলেন না। এদিকে তোলার চেষ্টার ফলে ড্রামটির ঢাকনা খুলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে প্রবল দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে।
বিশ্রী গন্ধ বেরনোয় শ্রমিকদের মনেও সন্দেহ হয়। তারা সেখান থেকে চলে যান। বিষয়টিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন মুসকান। তিনিও তখন সাহিলকে ঘরে একা রেখে বাপের বাড়ি চলে যান। ভেবেছিলেন সৌরভের বোন এবং ভগ্নিপতির ঘাড়ে খুনের দোষ চাপিয়ে দেবেন। কিন্তু বাবা-মার চাপে সত্যিটা স্বীকার করে ফেলেন তিনি। মেয়ের কাণ্ডকারখানা শুনে বাবা-মা জামাইয়ের জন্য হতাশ হয়ে পড়েন। পরে মেয়ে গ্রেফতার হলে তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, তার সর্বোচ্চ সাজা চান তাঁরা।
এদিকে মুসকান-সাহিলের হিমাচলের একাধিক ছবি-ভিডিও পুলিশের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে, তারা দুজনেই খুব খুশি, কোনওরকম অনুশোচনার ছাপ তাদের চোখে-মুখে নেই। বর্তমানে মুসকান মীরাটের জেলে বন্দি। জেল সুপারিনটেনডেন্ট বীরেশ রাজ শর্মা জানিয়েছেন, মুসকান ও সাহিলকে আলাদা ব্যারাকে রাখা হয়েছে এবং তাঁদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
গত শনিবার মুসকান জেল সুপারের সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ জানান। দাবি করেন, তাঁর পরিবার এই ঘটনায় বিরক্ত এবং তাঁর হয়ে মামলা লড়তে রাজি নয়। তাই সরকারি আইনজীবী চান। জেল কর্তৃপক্ষ তাঁর এই অনুরোধ আদালতে পাঠিয়েছে। এদিকে জেলের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁরা দু'জনেই নিয়মিত মাদকের ইনজেকশন নিতেন। এছাড়া, খাবারের প্রতিও তাঁদের অনীহা রয়েছে। তাই তাদের অন্যান্য বন্দিদের থেকে দূরে রাখা হয়েছে।