প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, প্রিয়াঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। মাঝেমধ্যেই তাঁকে রিকশায় করে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যেতেন বাবা। ২০১৩ সালে প্রিয়াঙ্কার মা-ও নাকি একইভাবে মারা গিয়েছিলেন। তারপর থেকেই বাবা ও মেয়ে চরম অবসাদ এবং নিঃসঙ্গতায় ভুগছিলেন।

অন্ধকার ঘরের ভেতরেই মেয়ের কঙ্কালের সঙ্গে বসবাস করছিলেন বাবা
শেষ আপডেট: 13 April 2026 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের মীরাটে (UP Meerat) ফিরল খাস কলকাতায় ঘটে যাওয়া রবিনসন স্ট্রিটের স্মৃতি (Kolkata Robinson case)। ঘর বাইরে থেকে তালাবন্ধ। আশেপাশের লোক জানতেন বাবা-মেয়ে বুঝি কোথাও চলে গিয়েছেন। এদিকে গত চার মাস আগে মারা গিয়েছে মেয়ে। অন্ধকার ঘরের ভেতরেই মেয়ের কঙ্কালের সঙ্গে বসবাস করছিলেন বাবা উদয় ভান বিশ্বাস (Meerut Skeleton Case)। গন্ধ যাতে বাইরে না যায়, তার জন্য ঘরভর্তি ছড়িয়ে দিতেন দামী পারফিউম (perfume to suppress decomposition smell UP)। শুক্রবার মীরাটের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়।
বন্ধ ঘর থেকে ৩৪ বছরের প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাসের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ (Meerut death skeleton recovered)। তিনি তাঁর বাবা উদয় ভান বিশ্বাসের সঙ্গেই থাকতেন।
গত চার মাস ধরে প্রতিবেশীরা তাঁদের কাউকেই দেখতে পাননি। আত্মীয়রা খোঁজ শুরু করলে শেষমেশ বেগম বাগের একটি চায়ের দোকানে দেখা মেলে উদয় ভানের। জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, প্রিয়াঙ্কা অসুস্থ এবং দেরাদুনের একটি হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু কথায় অসঙ্গতি থাকায় আত্মীয়দের চাপে তিনি শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেন, মেয়ে মারা গিয়েছে এবং দেহটি এখনও বাড়ির ভেতরেই রয়েছে।
পুলিশ এসে বাড়ির তালা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ। পচন ধরে শরীর প্রায় হাড়গোড়ে পরিণত হয়েছে। চারদিকে জমে আছে পুরনো খবরের কাগজ আর আবর্জনা। আত্মীয়দের দাবি, মৃত্যুর পর অন্তত তিন-চার দিন ওই দেহের সঙ্গেই ছিলেন উদয় ভান। পচাগন্ধ চাপা দিতে ঘরভর্তি সুগন্ধি আর পারফিউম স্প্রে করতেন তিনি। ঘরটি বাইরে থেকে তালা দেওয়া থাকলেও তিনি হয়তো পিছনের রাস্তা বা অন্য কোনওভাবে যাতায়াত করতেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, প্রিয়াঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। মাঝেমধ্যেই তাঁকে রিকশায় করে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যেতেন বাবা। প্রিয়াঙ্কার খুড়তুতো ভাই বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের দাবি, প্রিয়াঙ্কা মানসিক সমস্যার চিকিৎসাও করাচ্ছিলেন।
পরিবার সূত্রে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০১৩ সালে প্রিয়াঙ্কার মা-ও নাকি একইভাবে মারা গিয়েছিলেন। তারপর থেকেই বাবা ও মেয়ে চরম অবসাদ এবং নিঃসঙ্গতায় ভুগছিলেন।
মীরাট পুলিশ জানিয়েছে, দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদয় ভান কেন মেয়ের মৃত্যুর খবর কাউকে জানাননি এবং কঙ্কালের সঙ্গে কেন বসবাস করছিলেন, সেই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
কী ঘটেছিল কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটে?
২০১৫ সালে কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের একটি বাড়িতে ৭৭ বছর বয়সি এক বৃদ্ধের অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের সামনে আসে ঘটনার আরও এক হাড়হিম করা দিক। পুলিশ জানতে পারে, সেই বাড়ির ছেলে পার্থ দে, তাঁর দিদি দেবযানী দে'র কঙ্কালের সঙ্গে মাসের পর মাস একই বাড়িতে থাকছিলেন। 'দিদি'কে রোজ খেতেও দিতেন তিনি। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মানসিক ভাবে অসুস্থ পার্থ দে। তাঁর চিকিৎসাও শুরু হয় পাভলভে। পরে সুথ হয়ে বাড়িও ফিরে আসেন তিনি। তবে ২০১৭ সালে বাড়ি থেকে অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয় তাঁর।