
মায়াবতী-রাহুল
শেষ আপডেট: 12 April 2025 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন ওয়াকফ আইন (Waqf Act) প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বহুজন সমাজ পার্টির (Bahujan Samaj Party) সুপ্রিমো মায়াবতী (Mayawati) । এতদিন নীবর থেকে শনিবার এক্স হ্যান্ডেলে দলের বক্তব্য জানিয়েছেন দলিত নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারতের মুসলিম সমাজ যেহেতু আইনটি নিয়ে আপত্তি করছে তাই সরকারের উচিত হবে সেটি প্রত্যাহার করে নেওয়া। বিএসপি নেত্রীর বক্তব্য, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার আইন পাশ করিয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির সমালোচনার পাশাপাশি মায়াবতী কংগ্রেসের (Congress) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বিএসপি নেত্রীর অভিযোগ, কংগ্রেস মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ। মায়াবতী প্রশ্ন তুলেছেন কেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi, Leader of the opposition in Lok Sabha) ওয়াকফ নিয়ে বিতর্কে অংশ নেননি। মায়াবতীর বক্তব্য, রাহুলের সিদ্ধান্তে মুসলিম সমাজ ব্যথিত। ইন্ডিয়া জোটের শরিকেরাও অসন্তুষ্ট লোকসভার বিরোধী দলনেতার সিদ্ধান্তে।
লোকসভার বিতর্কে রাহুল অংশ নেননি। অন্যদিকে, কেরলের ওয়ানাডের সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi, Member of Parliament from Wanad, Kerala) বিতর্কের দিন সভাতেই উপস্থিত ছিলেন না। লোকসভায় গান্ধী পরিবারের দুই সদস্যের ওয়াকফ বিল নিয়ে নীরবতায় আগেই প্রশ্ন উঠেছে। যদিও কংগ্রেসের বক্তব্য, পার্টি ওয়াকফ বিলের বিরোধিতা করেছে। কোনও সদস্যের বিতর্কে অংশ না নেওয়া, কারও অধিবেশনে গরহাজিরায় তাতে কোনও প্রভাব পড়নি। কেরলে কংগ্রেসের শরিক ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন অফ মুসলিম লিগ (Indian Union of Muslim League) অবশ্য রাহুলের লোকসভার বিতর্কে অংশ না নেওয়া, প্রিয়ঙ্কার অধিবেশনে না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা বলেছে, এটা মুসলিমদের অধিকারকে লঘু করে দেখার শামিল। রাহুল কেন বিতর্কে অংশ নেননি তার কারণ কংগ্রেস জানায়নি। জানায়নি কেন অধিবেশনে হাজির ছিলেন না প্রিয়ঙ্কা গান্ধী।
বিএসপি নেত্রীর প্রশ্ন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের মতোই ওয়াকফ আইনেও সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদে বিরোধী দলনেতার নীরবতা মেনে নেওয়া যায় না।
নতুন আইনে ওয়াকফ বোর্ড/কাউন্সিলে অমুসলিমদের সদস্য করার বিধান রাখা হয়েছে। মায়াবতীর মতে, এই বিধান মুসলমানদের ধর্মীয় পরিসরে সরকারের হস্তক্ষেপ। দলিত নেত্রীর কথায়, সরকারের উচিত আইনটি বাতিল করে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে সমীক্ষা করা। তারপর সব পক্ষের মতামত নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত।