
শেষ আপডেট: 26 November 2023 20:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৫ দিন ধরে চলছে উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারকাজ। সবরকম চেষ্টা করেও বারংবার বাধার মুখে পড়ছেন উদ্ধারকারীরা। তবে শুধু সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গেই নয়, তার পাশেও যে অপেক্ষা করছে বড় বিপদ! হিমালয়ের কোলে তৈরি হওয়া জঞ্জালের বিশাল পাহাড়েই লুকিয়ে রয়েছে বিপদের অশনি সংকেত!
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গ তৈরির সময় যে বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে, তা জমে তৈরি হয়েছে পাহাড়। সুড়ঙ্গের পাশে রয়েছে সেই বর্জ্যের পাহাড়। ভারী বৃষ্টি হলে ওই পাহাড়ে ধস নামতে পারে। যার ফলে আশপাশের বসতি এলাকা মিশে যেতে পারে ধুলোয়।
শ্রমিকদের উদ্ধারে আনা হয়েছে উন্নত প্রযুক্তির খনন যন্ত্র। সেসব যন্ত্র দিয়ে ঠিক যেখানে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা কাজ করছেন তার একেবারে নাকের ডগায় রয়েছে আস্ত এক বিশাল আবর্জনার পাহাড়। আর এই আবর্জনার পাহাড়ই ভবিষ্যতে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। এমনই আশঙ্কার করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চারধাম প্রকল্পের অধীনে তৈরি করা হয়েছে সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গ। এই টানেল তৈরির সময় তৈরি হয়েছে বিশাল এই বর্জ্যের পাহাড়। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ বর্জ্য ফেলতে ফেলতে ক্রমেই গড়ে উঠেছে আবর্জনার অতিকায় পাহাড়টি। বর্জ্যের এই বিশাল স্তূপটি একবারে পাহাড়ের গা ঘেঁষেই রয়েছে। আর প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট পাহাড়ের পাশেই জঞ্জালের এই বিশাল স্তূপ ভবিষ্যতে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে নির্মাণের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম রয়েছে। কঠোর নির্দেশিকা থাকলেও সেই নিয়মকে যে বুড়ো আঙুল দেখানো হয়েছে তা বর্জ্যের এই বিশালাকার স্তূপ থেকেই স্পষ্ট। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছিল, বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হয় এমন নির্মাণ বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না। তবে সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে ফেলা হয়েছে বর্জ্য পদার্থ। যা বর্তমানে বিশাল এক পাহাড়ে পরিণত হয়েছে।
উত্তরাখণ্ড ইউনিভার্সিটি অফ হর্টিকালচার অ্যান্ড ফরেস্ট্রি-এর ভূতত্ত্ববিদ ও পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. এসপি সতীর কথায়, “বর্জ্যের এই পাহাড় খুবই বিপজ্জনক। বর্জ্যের পাহাড়ের শেষ প্রান্তে কোনও প্রাচীর দেওয়া হয়নি। এতেই বিপদ বাড়তে পারে। বিশেষ করেও বর্ষাকালে বৃষ্টির জেরে বর্জ্য পদার্থ ভেসে যেতে পারে সমতলের দিকে।” কেন্দ্রীয় নগর উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রাক্তন সচিব সুধীর কৃষ্ণও উদ্বেগ প্রকাশ একই কথা বলেছেন।
ইতিমধ্যে সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গে বিপর্যয়ের জন্য অনেক পরিবেশবিদ এই অঞ্চলে পরিকল্পনাবিহীন নির্মাণ কাজকে দায়ী করেছেন। সুড়ঙ্গের পাশে এই ‘বিপদ’-এর কথা জানার পর প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গে উদ্ধারকাজ নিয়েই ব্যস্ত তারা। তবে এর পর অবশ্যই বিষয়টি দেখা হবে।