ওয়েনাডের বেইলি ব্রিজের ছবি
শেষ আপডেট: 1 April 2025 16:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেটে গিয়েছে আট মাসেরও বেশি সময়। ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই ভয়াবহ ভূমিধসের (Devastating Landslide) কারণে রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল কেরলের (Kerala) ওয়েনাড (Waynad)। পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের জেরে ধ্বসংস্তূপের তলায় আটকে পড়ে প্রাণ হারান শয়ে শয়ে মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বেইলি ব্রিজ (Bailey Bridge) তৈরি করেছিল ভারতীয় সেনা। এবার সেই ব্রিজের উপর দাঁড়িয়েই ভয়াবহ ছবি সামনে আনলেন চুরলমালার মানুষজন (Chooralmala)।
লাগাতার বৃষ্টির জেরেই আচমকা ওয়েনাডের বিভিন্ন এলাকায় ধস নামে গত বছরের জুলাই মাসে। আটকে পড়েন বহু মানুষ। বৃষ্টির মধ্যেই জোরকদমে চলে উদ্ধারকাজ। ওয়েনাডের মেপ্পাডির কাছে পাহাড়ির এলাকায় ধস নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে থাকে। ধসের জেরে আশপাশের বাড়ি ও দোকান ঘর একেবারে ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যায়।
ভয়াবহ ঘটনার কয়েকমাস কাটতে না কাটতেই এবার বেইলি ব্রিজ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি ছবি সামনে এসেছে। যেখানে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, ভূমিধসের জেরে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। যেদিকেই চোখ যাচ্ছে ধবংসস্তূপের ভয়াবহ ছবি সামনে এসেছে।
তবে মাত্র আট মাস আগে যেখানে সাধারণ মানুষের বসবাস ছিল, সেই জায়গা এখন দেখলে রীতিমতো চমকে যেতে হবে। সুহারা জোসেফ নামে ৫৬ বছর বয়সি এক মহিলা প্রকৃতির রোষানলে তাঁর জমি, বাড়ি সর্বস্ব খুইয়েছেন। ভয়াবহ সেই মুহূর্তের কথা মনে আসতেই চোখ ভিজে যায় তাঁর। জানান, 'ঘরবাড়ি, জিনিসপত্র সব হারালেও পরোয়া করি না। কিন্তু যে মানুষগুলো আমাদের পরিবারের মতো ছিলেন আজ আর কেউ বেঁচে নেই। সেই যন্ত্রণা কখনওই ভোলার নয়।'
বর্তমানে তীব্র গরমে জেরবার কেরলের মানুষজন। সময় যত গড়াচ্ছে লাফিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। আট মাস আগে যে রাজ্য রীতিমতো মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছিল বর্তমানে তা মরুভূমির চেহারা নিয়েছে। দুর্যোগে প্রিয়জনদের হারিয়েছেন আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ফয়জল। তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের খোঁজে ব্রিজ পরিদর্শন করতে আসেন। তিনি জানিয়েছেন, 'এখানে আমার কাকা এবং পিসি থাকতেন। আমরা পরিবার, বন্ধুবান্ধব সবাইকে হারিয়েছি। এই দুঃখ কিছুতেই ভোলার নয়।'
তবে পরিবার হারিয়ে শুধুমাত্র স্মৃতির তাড়নায় ধ্বংসাবশেষ ঘুরে দেখা নয়, ভুমিধসের জেরে ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে থাকা মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই সেখানে যান বহু মানুষ। অনেকেই বলতে শোনা যায়, জায়গাটি আমাদের আত্মীয়দের সমাধির মতো। এটিকে কোনওভাবেই পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে দেখা উচিত নয়।
দীর্ঘ আট মাস পরেও মুন্ডাক্কাই এবং চুরলমালা একইরকমভাবে নীরব ও প্রাণহীন। একসময় ওয়ানাডের মেপ্পাডি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় ছিল। তবে বর্তমানে সেটি একটি পরিত্যক্ত ভূতের শহরে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, রাতে এই অঞ্চলে বন্যপ্রাণীদের দাপাদাপি মাত্রা ছাড়িয়েছে। সে কারণেই ধীরে ধীরে মানুষের উপস্থিতি সেখানে একেবারে শূন্য হয়ে গিয়েছে।
যদিও বর্তমানে সেই জায়গাটিকেই পুনরুদ্ধার করে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে উদ্যোগ নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সরকার। কিন্তু স্থানীয়রা কোনওভাবেই জায়গাটিকে দর্শনীয় স্থান না করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন পবিত্রভূমিতে তাঁদের অনেক স্মৃতি রয়েছে, তাই কোনওভাবেই তা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত হবে না।