মাওবাদী সংগঠন দুর্বল হওয়ার অন্যতম বড় ইঙ্গিত- হামলায় নিহত মাওবাদীর সংখ্যা এবং আত্মসমর্পণের (Maoist Surrender) হার। ২০২৪ সালে ২৯০ জন মাওবাদী মারা যায়, ২০২৫ সালে এই সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬৪–তে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ।
.jpg.webp)
মাওবাদী দমন অভিযান
শেষ আপডেট: 31 March 2026 07:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্চ ৩১, ২০২৬- এই তারিখকে লক্ষ্য করেই মাওবাদী (Maoist) কার্যকলাপ পুরোপুরি নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সময়সীমা শেষ হয়েছে, কেন্দ্রের কাছে থাকা সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ভারতের মাওবাদী আন্দোলন এখন দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় পৌঁছেছে। তবে সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি, এমনটাও স্পষ্ট।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, লেফট উইং এক্সট্রিমিজম (Left Wing Extremism) বা মাওবাদী-সংক্রান্ত সহিংসতার চিত্র বদলে দিয়েছে গত এক দশকের অভিযান। ২০১০ সালে যেখানে ২ হাজার ২১৩টি সন্ত্রাসের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৪০১-এ, অর্থাৎ প্রায় ৮২ শতাংশ কম। একই সময়ে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তাকর্মী মিলিয়ে মৃত্যুও কমেছে ৯০ শতাংশ, ১ হাজার ৫ থেকে নেমে ১০০-তে।
২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসের তথ্য আরও ইঙ্গিত দিচ্ছে বর্বরতা কমার। ২৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে ৪২টি মাওবাদী ঘটনার খবর মিলেছে, মৃত্যু মাত্র ৬, পাঁচ জন সাধারণ মানুষ এবং একজন নিরাপত্তাকর্মী। অন্যদিকে, অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তাবাহিনী ইতিমধ্যেই ৫২ জন মাওবাদীকে হত্যা করেছে।
মাওবাদী সংগঠনের ভিত দুর্বল হওয়ার অন্যতম বড় ইঙ্গিত- হামলায় নিহত মাওবাদীর সংখ্যা এবং আত্মসমর্পণের (Maoist Surrender) হার। ২০২৪ সালে ২৯০ জন মাওবাদী মারা যায়, ২০২৫ সালে এই সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬৪–তে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ। আত্মসমর্পণেও একই ছবি। শুধু ২০২৫ সালেই ২ হাজার ৩৩৭ মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন, যা রেকর্ড সংখ্যক। ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত আরও ৬৩৩ জন অস্ত্র নামিয়েছেন।
এই আত্মসমর্পণের কেন্দ্র চিনিয়ে দিচ্ছে সংঘর্ষের প্রধান এলাকা। শুধু ছত্তীসগড়েই ২০২৫ সালে ১ হাজার ৫৭৩ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তারপরেই আছে তেলঙ্গনা (৫০৩) ও মহারাষ্ট্র (১২৮)। ২০০৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত গোটা দেশে ১৬ হাজার ৪৯৬ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন, যার অর্ধেকের বেশি ছত্তীসগড়ের।
নকশালবাদের ভৌগোলিক বিস্তৃতিও ব্যাপকভাবে কমেছে। ২০১০ সালে ৯৬টি জেলা মাওবাদীদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল। ২০২৫-এ তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩২-এ। ২০২৬ সালে মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১১টি জেলা থেকে এমন ঘটনার খবর মিলেছে।
সরকারের দাবি, নিরাপত্তা অভিযান এবং উন্নয়ন প্রকল্প, এই ‘ডবল স্ট্রাটেজি’ই ভেঙে দিয়েছে মাওবাদী শক্তির ভিত। গত এক দশকে ১৭ হাজার ৫০০ কিমি রাস্তা তৈরি হয়েছে, বসানো হয়েছে ৯ হাজার মোবাইল টাওয়ার, খোলা হয়েছে হাজার হাজার স্কুল, পোস্ট অফিস, ব্যাংক, হাসপাতাল, যেসব এলাকায় একসময় সরকারি উপস্থিতি ছিল খুবই দুর্বল।
শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার, মাওবাদী আন্দোলন এখন অতীতের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল। কিন্তু চূড়ান্ত লক্ষ্য- সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ করা, সেই লক্ষ্যপূরণ এখনও কিছুটা দূরে। সরকার এখন চায় নিরাপত্তা বাহিনীর এই সাফল্য স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে রূপ পাক।