
অমৃতসরে গ্ৰামের বাড়ি
শেষ আপডেট: 29 December 2024 08:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঞ্জাবের সঙ্গে ছিল নাড়ির টান। দেশের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন অমৃতসরে নিজের শিকড়কে কখনও ভুলে যাননি। নম্র ব্যবহার ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধির জন্য পরিচিত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সবসময় ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
১৯৩২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রভিন্সের চকওয়ালের গাহ নামে এক ছোট্ট গ্রামের শিখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা গুরমুখ সিং এবং মা অমৃত কৌর। শৈশবেই তিনি তাঁর মাকে হারান। ঠাকুমার কাছেই মানুষ। ভারত ভাগের পর তিনি অমৃতসরে চলে আসেন।
গাহ গ্ৰামের সেই বাড়ির অন্দরে আজও মনমোহনের ছাপ স্পষ্ট। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়ির ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেখানেই দেখা যাচ্ছে অমৃতসরের বাড়ির ছবি। মনমোহন সিংয়ের এক ভাই সুরজিৎ সিং কোহলি দাদার সঙ্গে গ্ৰামের যোগাযোগের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, অমৃতসরে এলেই তিনি স্বর্ণ মন্দিরে যেতেন। স্থানীয়দের মতে, অমৃতসরের জন্য বেশ কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদন করেন।
লেখাপড়ায় তিনি বরাবরই প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। মনমোহন অমৃতসরের স্কুলে পড়া শেষ করে হিন্দু কলেজ থেকে অর্থনীতিতে যথাক্রমে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান। এরপর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। ন্যুফিল্ড কলেজের ছাত্র হিসাবে তিনি ১৯৬২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন শাস্ত্রে ডক্টরেট লাভ করেন।
তবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পরিবার যে বাড়িতে থাকতেন বর্তমানে সেটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এখন সেই বাড়িতে কেউ না থাকলেও মনমোহন সিংয়ের মৃত্যুর পর নতুন করে চর্চায় এল গাহ গ্রাম।
৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আর এই সফরে মনমোহন সিংয়ের প্রথম প্রেম ছিল পাঞ্জাব। তিনি সেখানেই জন্মগ্রহণ করেন ও শিক্ষা লাভ করেন। পাঞ্জাবের মাটির শক্তিই তাঁকে দেশের প্রথম শিখ প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিল।
অমৃতসর শহরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে, কংগ্রেস তাঁকে ২০০৯ এবং ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে অমৃতসর থেকে টিকিট দেওয়ার কথা ভেবেছিল কিন্তু শরীর খারাপের জন্য তিনি তা ফিরিয়ে দেন।