1.jpeg)
নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 27 December 2024 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৯০ সালে প্রথমবার হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের। সাকসেসফুল না হওয়ায় বার বার অস্ত্রোপচার করতে হয়। শেষে ২০০৯ সালে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের তরফে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে সুস্থ করার কার্যত চ্যালেঞ্জ নেওয়া হয়। ওড়িশার চিকিৎসক রমাকান্ত পাণ্ডার নেতৃত্বে স্টেন বসানো হয়। অপারেশন চলে ১০-১১ ঘণ্টা। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যুর পর সেই সময়ের কথা তুলে আনলেন চিকিৎসক। জানালেন, ২০০৯ সালে ওই দিন জ্ঞান ফেরার পর প্রথমবার তিনি পরিবারের কারও কথা নয়, জিজ্ঞাসা করেছিলেন এই বিষয়টির কথা।
ওড়িশার রমাকান্ত পাণ্ডের নেতৃত্বে ২০০৯ সালে স্টেন বসেছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হৃদযন্ত্রে। সেসময় তিনি ও এইমসের বাকি চিকিৎসকরা তাঁকে সুস্থ রাখার চ্যালেঞ্জ নেন। ১০ বছর হার্ট ভাল রাখার চ্যালেঞ্জে জিতেও যান মনমোহন। সেসময় চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, মনমোহন বাধ্য ছাত্রের মতো। তাঁকে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাই পালন করেছেন। হার্ট ভাল রাখতে সমস্ত কথা মেনে চলেছেন। রমাকান্ত পাণ্ডা তাঁকে 'প্রিয় রোগী' বলে উল্লেখ করেন।
গতকাল অর্থাৎ ২৬ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর। এইমসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা এই বর্ষীয়ান নেতার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের কথা শেয়ার করেন চিকিৎসক রমাকান্ত। যার হাত ধরে উঠে আসে মনমোহনের দেশপ্রেমের গল্প।
চিকিৎসক জানান, অস্ত্রোপচারের পর অজ্ঞান ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। লাগানো ছিল নল। যা খোলার পর কথা বলার মতো অবস্থায় এসে তিনি প্রথম দেশের কথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন। রমাকান্ত পাণ্ডে বলেন, 'আমরা সার্জারি শেষ করার পর রাতের দিকে ওঁর ফার্স্ট ব্রিদিং পাইপ খুলে দি। যাতে ওঁ কথা বলতে পারে। প্রথমেই জিজ্ঞাসা করেছিলেন দেশের অবস্থা কী, কাশ্মীর কেমন আছে। আমি জিজ্ঞাসা করি, আপনি সার্জারি নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করবেন না! ওঁ বলেছিলেন, জানি তো আপনারা ভালই করবেন।'
চিকিৎসক স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আরও বলেন, 'প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ওই দিন বার বার বলছিলেন, আমি সার্জারি নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নই। আমি তার চেয়ে অনেক বেশি চিন্তিত আমার দেশ নিয়ে।'
চিকিৎসক বলেন, 'মনমোহন সিং মানুষ এত ভাল ছিলেন। ভীষণ নম্র-ভদ্র ব্যক্তি। আদর্শ দেশপ্রেমিক। চিকিৎসক হিসেবে আমি এজীবনে ওঁর মতো কাউকে দেখিনি।'
রোগী ও চিকিৎসকের সম্পর্কের বাইরেও ওড়িশার এই চিকিৎসকের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরেও ভাল সম্পর্ক ছিল মনমোহন সিংয়ের। সে নিয়ে বলতে গিয়ে চিকিৎসক আবেগপ্রবণ হয়ে যান। জানান, এককথার মানুষ ছিলেন। যা বলতেন, আশ্বাস দিতেন, করতেন। ওঁর চিন্তা-ভাবনা পাল্টানো কারও সাধ্যি ছিল না।
২০০৯ থেকে ২০১৯, কোনও অস্ত্রোপচার হয়নি আর। সুস্থ থাকার চ্যালেঞ্জে জিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু শরীর যে দারুণ ছিল, তা নয়। ধীরে ধীরে বার্ধক্যজনিত সমস্যায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। একসময় ভোটের লড়াই থেকেও পিছু হটেন। দলকে জানিয়ে দেন, শারীরিক অবস্থায় জন্য ভোটে দাঁড়াবেন না তিনি। শক্তি হারাচ্ছিল শরীর। সাম্প্রতিক কালে একাধিক বার হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। ফিরেও এসেছেন। বৃহস্পতিবার সকলেই ভেবেছিলেন, প্রতিবারের মতো এবারও সুস্থ হয়ে ফিরবেন বাড়িতে। কিন্তু চিকিৎসকদের লড়াই ব্যর্থ হয়। দেশকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে ছেড়ে বিদায় নেন মনমোহন।