Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অজাতশত্রু ভদ্রলোক মনমোহন সিং (২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৩২-২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪)

মনমোহন সিং ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের গাহ (অধুনা পাকিস্তানের চকওয়াল জেলা)-তে এক শিখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

অজাতশত্রু ভদ্রলোক মনমোহন সিং (২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৩২-২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪)

মনমোহন সিং (২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৩২-২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪)

শেষ আপডেট: 27 December 2024 14:29

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অজাতশত্রু, বিচক্ষণ অর্থনীতিবিদ তথা ভারতের গুটিকতক 'সুভদ্রলোক' রাজনীতিক কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং প্রয়াত। রাজনৈতিক জীবনের বাইরে তাঁর অন্যতম বিশিষ্ট পরিচয় হল, তিনি একজন ভদ্রলোক। যাঁর কোনওকালে, কোনও ক্ষেত্রে শত্রু কেউ ছিল না। সেই মনমোহন সিংয়ের জন্ম ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৩২ সালে। মনমোহন ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার আগে ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর, ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ভারতের যোজনা কমিশনের সহ অধ্যক্ষ এবং ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ভারতের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। 

মনমোহন সিং পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাও মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসাবে কাজ করেছিলেন। ২০০৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর অপ্রত্যাশিতভাবেই মনমোহন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে মনোনীত হন। ২২ মে ২০০৪ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম পাঁচ বছর সরকারি অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা দূরীকরণ, দরিদ্র চাষিদের ঋণ মকুব এবং শিল্পমুখী অর্থনীতি ও কর নীতির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন।

২০০৯ সালে সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়লাভের পর ২২ মে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পুনর্নির্বাচিত হন এবং তিনিই জওহরলাল নেহরুর পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি পুরো পাঁচ বছর কার্যভার সম্পাদনের পর পুনরায় নির্বাচিত হন।

শৈশব ও শিক্ষা

মনমোহন সিং ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের গাহ (অধুনা পাকিস্তানের চকওয়াল জেলা)-তে এক শিখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা গুরমুখ সিং এবং মাতা অমৃত কৌর। শৈশবেই তিনি তাঁর মাকে হারান এবং তাঁকে মানুষ করেন তার ঠাকুমা। ভারত ভাগের পর তিনি অমৃতসরে চলে আসেন। পড়াশোনায় তিনি বরাবরই প্রথম স্থান অধিকার করেছেন এবং ১৯৫২ ও ১৯৫৪ সালে চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে যথাক্রমে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান। এরপর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। ন্যুফিল্ড কলেজের ছাত্র হিসাবে তিনি ১৯৬২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন শাস্ত্রে ডক্টরেট লাভ করেন। 

১৯৯৭ সালে আলবার্তো বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে আইন বিষয়ে সান্মানিক ডক্টর উপাধি প্রদান করে। ২০০৬ সালের জুন মাসে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সন্মানিক সাধারণ আইনের বিষয় ডক্টর উপাধি প্রদান করে ও সেই বছরেই অক্টোবর মাসে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে একই উপাধিতে ভূষিত করে। 
প্রাথমিক কর্মজীবন

তিনি ডি ফিল-এর পড়াশোনা শেষ করার পর ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত UNCTAD-এর হয়ে কাজ করেন। সাতের দশকে তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং ভারত সরকারের অর্থ ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। ১৯৮২ সালে তিনি ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর নিযুক্ত হন এবং এই পদে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ছিলেন। তিনি ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত ভারতীয় যোজনা কমিশনের সহ সভাপতি ছিলেন।

ভারতের অর্থমন্ত্রী

১৯৯১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাও তাঁকে অর্থমন্ত্রী হিসাবে মনোনীত করেন। ১৯৯৬-এ রাও সরকার নির্বাচনে পরাজিত হয়।
রাজ্য সভার কর্মজীবন

মনমোহন ১৯৯১ সালে রাজ্যসভায় মনোনীত হন এবং পরে ২০০১ ও ২০০৭ সালে পুনর্নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সালে পর্যন্ত যখন বিজেপির সরকার ছিল তখন তিনি রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা ছিলেন। ১৯৯৮ সালে তিনি লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ দিল্লি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু তাতে জয়লাভ করতে পারেননি।

২০০৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস লোকসভায় বিপুল জয়লাভ করে। এক বিস্ময়কর পদক্ষেপের মাধ্যমে সনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী রূপে মনমোহনের নাম ঘোষণা করেন। যদিও তিনি কখনও লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেননি, তবুও তাঁর অবিতর্কিত সুনাম এবং সনিয়ার মনোনয়ন তাঁকে UPA জোটের এবং বাম জোটের সমর্থন লাভে সাহায্য করেছে। ২২ মে, ২০০৪ সালে দেশের প্রথম অহিন্দু ও শিখ ধর্মাবলম্বী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন মনমোহন সিং।

অর্থনৈতিক নীতি

তিনি এবং পি ভি নরসিমা রাও যে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের কাজ ১৯৯১ সালে শুরু করেছিলেন, তা অব্যাহত রাখেন বিজেপি প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীও। সিংয়ের সরকার জটিল বিক্রয় করের পরিবর্ত হিসাবে VAT কর ব্যবস্থার প্রচলন করেন। 

সমালোচনা

বিরোধী দল বিজেপির নেতা লালকৃষ্ণ আদবানি, মনমোহন সিংকে সর্বকালের দুর্বলতম প্রধানমন্ত্রী রূপে ব্যাখ্যা করেন। ২২ জুলাই, ২০০৮-এ সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম জোট সরকারের ভারত-মার্কিন পারমাণবিক চুক্তির প্রতিবাদে সরকার থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে। ইউপিএ লোকসভায় প্রথম বারের জন্য অনাস্থা প্রস্তাবের সম্মুখীন হয়। দুদিনের তর্ক-বির্তর্কের পর ২৭৫-২৫৬ আস্থাভোটে UPA জয়লাভ করে। 

ব্যক্তিগত জীবন

মনমোহন সিংয়ের স্ত্রীর নাম গুরশরণ কৌর। তাঁকে ১৯৫৮ সালে বিয়ে করেন মনমোহন এবং তাঁদের তিন কন্যা সন্তান আছে। বড় মেয়ে উপিন্দর সিং দিল্লির সেন্ট স্টিফেনস কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক। দ্বিতীয়া কন্যা দামন সিংও লেখিকা। ছোট মেয়ে অমৃতা সিং আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন-এর একজন কর্মরত আইনজীবী এবং বিয়ে করেছেন এক অধ্যাপককে। 

মৃত্যু

২৬ ডিসেম্বর ২০২৪-এ, মনমোহন সিং কে হৃদরোগ এবং বার্ধক্যজনিত সমস্যার জন্য নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেসে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভর্তি হওয়া মনমোহন সিং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রয়াত হন। তাঁর প্রয়াণে দেশ-বিদেশের রাষ্ট্রনেতারা গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।


```