
মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 31 December 2024 17:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছরের শেষদিন, মঙ্গলবার মণিপুর হিংসা নিয়ে বিবেক জেগে উঠল বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের। এদিন তিনি বলেন, মণিপুরে জাতিদাঙ্গায় বহু মৃত্যু ও হাজার হাজার গৃহহীন হওয়ার জন্য অনুশোচনা বোধ করছেন। ক্ষমা চাইছেন রাজ্যের মানুষের কাছে। এই প্রথম এধরনের মন্তব্য করে বর্ষশেষের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই গোটা বছরটি খুবই দুর্ভাগ্যজনকভাবে কাটল। আমি অনুশোচনা বোধ করছি এবং আমি ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে ঘটে চলা সমস্ত ঘটনার জন্য রাজ্যের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইছি।
বীরেন সিংয়ের এই মন্তব্যের পরপরই কংগ্রেস এনিয়ে তেড়েফুঁড়ে নেমেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এক্সবার্তায় লিখেছেন, মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চাইতে পারলে প্রধানমন্ত্রী মোদী কেন মণিপুরে গিয়ে তা করতে পারছেন না? রমেশের তীক্ষ্ণ শ্লেষ প্রধানমন্ত্রী দেশ-বিদেশ সফর করে বেড়াতে পারছেন। আর একবার মণিপুরে যেতে পারছেন না! তিনি আরও বলেছেন, মণিপুরের মানুষ কিছুতেই বুঝতে পারছেন না, কেন প্রধানমন্ত্রী মোদী ধারাবাহিকভাবে তাঁদের উপেক্ষা করে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে মণিপুরকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। রমেশের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী কেন মণিপুরে যাচ্ছেন না আর কিছু বলছেন না? ২০২৩ সালের ৪ মে থেকে তিনি ইচ্ছে করেই যাচ্ছেন না।
মুখ্যমন্ত্রী বিরস মুখে বলেন, এই সময়ের মধ্যে বহু মানুষ তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। বহু মানুষকে ভিটেমাটি ছাড়তে হয়েছে। আমি সত্যিই তার জন্য খুবই দুঃখিত। আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। বীরেন সিং আশাপ্রকাশ করে বলেন, এখন আমি আশা করি গত ২-৩ মাস ধরে যে শান্তি ফিরেছে, তাতে আগামী ২০২৫ সালের নববর্ষ ফের রাজ্যে শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিয়ে আসবে। আমি সকলের কাছে একটাই কথা বলতে চাই, যা ঘটে গিয়েছে, তা গিয়েছে। আমাদের এখন অতীতের ভুল ভুলে গিয়ে এক নতুন জীবন শুরু করতে হবে। এক শান্তিপূর্ণ মণিপুর, এক সমৃদ্ধশালী মণিপুর, যেখানে আমরা সকলে একসঙ্গে মিলে বেঁচে থাকব।
প্রসঙ্গত, মণিপুরে পার্বত্য এলাকায় কুকি সম্প্রদায়ের সঙ্গে উপত্যকা এলাকার মেইতেই সম্প্রদায়ের গন্ডগোলে প্রায় দেড় বছর ধরে আগুন জ্বলে গিয়েছিল মণিপুরে। যে মণিপুর নিয়ে রাজনৈতিক কোন্দল লোকসভার গত শীত অধিবেশন পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। মণিপুর সামলাতে ব্যর্থতার দায়ে মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের পদত্যাগের দাবি উঠেছে বহুবার। কিন্তু, কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নেকনজরে থাকা বীরেন সিংয়ের ইস্তফা কিংবা তাঁকে অপসারণ করেনি কেন্দ্র। সেই মুখ্যমন্ত্রী হঠাৎ ২০২৪ সালের শেষদিনে ক্ষমা চাওয়ায় রাজনৈতিক মহলের ভুরু কুঁচকে উঠেছে।