
গুরুপ্রীত সিং।
শেষ আপডেট: 10 February 2025 11:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবৈধভাবে ‘ডাঙ্কি’ রুট ব্যবহার করে আমেরিকা যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন পাঞ্জাবের বাসিন্দা গুরপ্রীত সিং। তবে গুয়াতেমালায় পৌঁছানোর পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ৩৩ বছর বয়সি এই যুবকের। এই ঘটনার পর পাঞ্জাব সরকারের মন্ত্রী কুলদীপ সিং ঢালিওয়াল শোকাহত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অনুরোধ করেছেন, কেউ যেন এই বিপজ্জনক পথ বেছে না নেয়।
পাঞ্জাব সরকারের মন্ত্রী কুলদীপ সিং ঢালিওয়াল বলেন, 'আমাদের অনেক যুবক এখন আমেরিকায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। গত কয়েক মাস ধরে আমরা এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। গুরপ্রীত গুয়াতেমালায় পৌঁছেছিল এবং অবৈধ রুট দিয়ে আমেরিকায় ঢোকার চেষ্টা করছিল। সেখানেই সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, কেউ যেন অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা না করে।' মন্ত্রী আরও জানান, মৃতদেহ দেশে ফেরানোর জন্য তিনি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
মৃত যুবক গুরপ্রীতের ভাই তারা সিং জানান, তাঁর ভাই তিন মাস আগে দেশ ছেড়েছিল। ভাইয়ের স্বপ্ন ছিল, আমেরিকায় যাওয়া। চণ্ডীগড়ের এক এজেন্ট, বলবিন্দর সিং, সাড়ে ১৬ লাখ টাকার বিনিময়ে গুরপ্রীতের বিদেশ যাত্রার ব্যবস্থাও করে দেন। প্রথমে তাঁকে গায়ানায় পাঠানো হয়। এরপর এক পাকিস্তানি এজেন্ট, মোহাম্মদ, গুরপ্রীতকে কলম্বিয়া হয়ে পানামার জঙ্গল পার করিয়ে গুয়াতেমালায় নিয়ে যান।
তারা সিং বলেন, 'আমরা জানতাম না যে ওই এজেন্ট পাকিস্তানি। সে বলেছিল, প্রথমে টাকা নিতে হবে, তারপর বিমানে পাঠানো হবে। কিন্তু আদতে ভাইকে পায়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় অতটা পথ। গুয়াতেমালায় একটি হোটেলে ওঠার পরে ওর শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। মাত্র ৫-৭ মিনিটের মধ্যেই ওর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়, মারা যায়।'
তিনি সবাইকে সতর্ক করে আরও বলেন, 'আমার ভাই যে ভুল করেছে, সেটা আর কেউ করবেন না। আমরা ওকে অনেকবার বারণ করেছিলাম, কিন্তু ওর মাথায় শুধুই আমেরিকা যাওয়ার স্বপ্ন ঘুরছিল।'
পরিবার সরকারের কাছে গুরপ্রীতের মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছে। তারা সিং বলেন, 'আমাদের ভাইয়ের দেহ যেন আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়, এটাই আমাদের একমাত্র অনুরোধ।'
তারা সিং আরও অভিযোগ করেন, যারা অবৈধভাবে মানুষকে বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তাঁর কথায়, 'এই দালালরা প্রথমেই টাকা নেয়, তারপর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। কখনও মুরগির খাঁচায় করে, কখনও জলের ট্যাংকারে ভরে লোক পাঠায়। এত টাকা খরচ করার চেয়ে দেশে কাজ করাই ভাল!'
প্রসঙ্গত, ক্ষমতায় আসার পরে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করতে শুরু করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহেই অবৈধভাবে আমেরিকায় যাওয়া ১০৪ জন ভারতীয়কে সামরিক বিমানে করে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে প্রশাসন। এর পরেই সামনে এল বেআইনি পথে সে দেশে যেতে গিয়ে যুবকের মর্মান্তিক পরিণতির কথা। পাঞ্জাব সরকার অনুরোধ জানিয়েছে, কেউ যেন অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ঝুঁকি না নেয়।