দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার সকালে কেরলের কালামাসেরির কনভেনশন সেন্টারে ধর্মীয় জমায়েতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করল এক ব্যক্তি। ত্রিশূরের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সি ওই ব্যক্তির নাম ডোমিনিক মার্টিন। সে কোদাকারা থানায় গিয়ে ধারাবাহিক এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে।
কালামাসেরির পুলিশের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল এমআর অজিত কুমার জানিয়েছেন, গ্রামীণ ত্রিশূরের কোদাকারা থানায় গিয়ে ডোমিনিক মার্টিন নামে ওই ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করেছে। সে দাবি করেছে, সকালের ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় তার হাত রয়েছে। সে আরও জানিয়েছে, এদিন ওই কনভেনশন হলে যে ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রার্থনা চলছিল, সে নিজেও ওই একই গোষ্ঠীর সদস্য।
তার এই দাবি সত্যি কিনা, তা যদিও এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। পুলিশ ওই ব্যক্তির বক্তব্যের সত্যতা খতিয়ে দেখছে।
সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তি আদতে গুজরাতের বাসিন্দা। ম্যাঙ্গালোর থেকে সে কান্নুর হয়ে আরিকোড যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। তার সঙ্গে একটি ব্যাগ ছিল যেটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তার ভিতরে কী কী রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডমিমিককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সে মানসিকভাবে সুস্থ কিনা, তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
রবিবার সকালে ওই কনভেনশন সেন্টারে ধর্মীয় সভা জেহবাজ উইটনেস চলার সময় আচমকাই তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে দেন মানুষ। সেই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে একজনের। আহতের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ২০ জন বলে জানা গেলেও পরে তা বেড়ে হয়েছে ৪০।
সূত্রের খবর, ৩ দিনের ওই ধর্মীয় সভার রবিবারই ছিল শেষ দিন। এদিন প্রার্থনার জন্য ওই কনভেনশন হলে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার মানুষ। ঘড়িতে তখন ৯টা বেজে ৪৭ মিনিট। তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে হলঘর। একটা নয়, চোখের পলক ফেলার মধ্যে পরপর তিনবার বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আতঙ্কে সেখান থেকে বেরোনোর চেষ্টা করতে শুরু করেন মানুষ। হুড়োহুড়িতে পদপৃষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। এছাড়া এই বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে এনআইএ-র হাতে। ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডের একটি দলও যাচ্ছে ঘটনাস্থলে। কেরল পুলিশ জানিয়েছে, হামলার জন্য ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছিল। টিফিন বক্সের মধ্যে ভরে রাখা হয়েছিল বোমাগুলি। হলঘরটি ইতিমধ্যেই সিল করে দিয়েছে পুলিশ।
আহতদের ইতিমধ্যে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করে কাজে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছেন। যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তাঁর সঙ্গে ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথা হয়েছে।