
শেষ আপডেট: 11 December 2023 17:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের শৈল শহর হল ওয়েনাড়। পাহাড়, গুহা, অরণ্য, জলপ্রপাত নিয়ে সে এক ছবির মতো জায়গা। কেরলের এই জনপদ থেকেই সংসদের সদস্য হলেন রাহুল গান্ধী।
এহেন ওয়েনাড়ে বিভীষিকা হয়ে উঠেছে এক মানুষখেকো বাঘ। গত শনিবার ওয়েনাড় জেলায় প্রজেশ নামে এক মধ্যবয়স্ক কৃষক বাঘের আক্রমণের মুখে পড়েন। তাঁকে প্রায় অর্ধেক খেয়ে ফেলে বাঘটি।
ওয়েনাড়ের অদূরেই হল বান্দিপুর টাইগার রিজার্ভ। বলতে গেলে ওয়েনাড়ের সুলতান বাথেরি দিয়ে কর্নাটকের বান্দিপুর অভয়ারন্যে ঢুকে পড়া যায়। আবার বান্দিপুর ও নাগারহোল অভয়ারান্য একেবারে লাগোয়া। এই দুই অভয়ারণ্যে মোট ৩১৬টি বাঘ রয়েছে। তার মধ্যে বান্দিপুরে রয়েছে ১৯১টি বাঘ। আর নাগারহোলে রয়েছে ১২৫টি বাঘ। এই অভয়ারণ্য থেকেই ওয়েনাড়ের লোকালয়ে বাঘ ঢুকে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ওয়েনাড়ের সেই মানুষখেকোকে এবার গুলি করে মারার নির্দেশ দিয়েছে কেরলের সরকার। বন দফতর জানিয়েছে, আগে ওই বাঘটিকে চিহ্নিত করতে হবে। ঠিকঠাক ভাবে তাকে চিহ্নিত করার পরই তবে চরম পদক্ষেপ করা যাবে। তার আগে নয়। এমন যেন না হয়, মানুষখেকো মারতে গিয়ে অন্য কোনও বাঘ মারা গেল।
নির্দেশে এও বলা হয়েছে, বাঘটিকে ধরতে পারলে বা তাকে ঘুম পাড়াতে পারলে ভাল। কিন্তু তা না করতে পারলে তাকে মেরে ফেলতে হবে। নইলে এলাকার মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
বাঘটিকে চিহ্নিত করার জন্য বন দফতর বিভিন্ন জায়গায় ১১টি ক্যামেরা লাগিয়েছে। তবে এখনও তাকে স্পট করা যায়নি।
গত শনিবারের ঘটনায় ইতিমধ্যে ওয়েনাড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশ মৃতদেহ নিয়ে যেতে গেল স্থানীয়রা বাধা দেয়। এর আগে জানুয়ারি মাসে ওয়েনাড়ে ৫২ বছর বয়সি এক কৃষকেরও প্রাণ গেছিল বাঘের আক্রমণে। বন দফতর মনে করছে, বাঘটিকে বাগে আনতে না পারলে বা তাকে মেরে না ফেললে এটা থামবে না।