
পাকিস্তানি হানিট্র্যাপে পড়ে নৌসেনার তথ্য ফাঁস যুবকের
শেষ আপডেট: 16 April 2025 12:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের হানিট্র্যাপের ফাঁদে পড়ে ভারতীয় নৌসেনার সংবেদনশীল তথ্য ভাগ করে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার এক যুবককে জামিন দিল বম্বে হাইকোর্ট। তবে একই সঙ্গে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে দেশের তরুণ সমাজকে, আদালত বলেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার 'হানিট্র্যাপ' নামক বিপদ এখন ভয়ানকভাবে বাড়ছে, সাবধান হোন!
২৩ বছরের ওই যুবক ছিলেন মুম্বইয়ের নৌ ডকইয়ার্ডের এক প্রাক্তন অ্যাপ্রেন্টিস। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, তিনি হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকে দু'জন মহিলার সঙ্গে পরিচিত হন, যাঁরা নিজেদের ‘শিপিং কোম্পানি'র কর্মী বলে পরিচয় দেন। আসলে তাঁরা পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করতেন।
জাস্টিস মিলিন্দ যাদবের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মামলাকে 'একটি ক্লাসিক হানিট্র্যাপের উদাহরণ' বলে বর্ণনা করেছে। বিচারপতি বলেন, 'সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত কারও পক্ষ থেকে যদি খুব প্রশংসাসূচক বা অতিরিক্ত মনকাড়া বার্তা আসে, তাহলে তাতে সাবধান হতে হবে। এমন বার্তার আড়ালেই থাকতে পারে হানিট্র্যাপের ফাঁদ।'
এটিএস-এর প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ওই যুবক আরতি শর্মা ও পায়েল অ্যাঞ্জেল নামের দু'টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ওই মহিলাদের সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন। এমনকি তাঁদের কথায় প্রভাবিত হয়ে নৌসেনার জাহাজের মেরামতের তথ্য, লোকেশন, ইঞ্জিনের নকশা, এমনকি সাবমেরিন সম্পর্কিত তথ্যও শেয়ার করেন ওই যুবক।
পরবর্তী কালে তদন্তে জানা যায়, ওই সোশ্যাল অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনা করতেন পাকিস্তানি গোয়েন্দারা। আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করে তা নিশ্চিত করা হয়।
প্রসিকিউশন পক্ষ আদালতে দাবি করে, চার মাস ধরে নৌবাহিনীর অস্ত্র বহনকারী জাহাজ সম্পর্কিত তথ্য ফাঁস করা হয়েছে, যা সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘন। এমনকি এসব তথ্যের বিনিম.ে ২০০০ টাকার লেনদেনও হয়েছিল বলে জানানো হয় আদালতে।
আসামির আইনজীবী বিরল রাঠোর জানান, তাঁর মক্কেল আদতে হানিট্র্যাপে পড়েছিলেন এবং তাঁর কোনও অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। তাঁদের মধ্যে যে ২০০০ টাকা বিনিময়ের প্রমাণ মিলেছে, তাও পরিস্থিতির ফেরে ঘটানো হয়েছে এবং ফেরত দেওয়ার কথাও ছিল। এই ক্ষুদ্র অঙ্ককে কোনওভাবেই গুপ্তচরবৃত্তির বিনিময় বলা চলে না।
আদালতও সব তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখতে পায়, ওই মহিলাদের সঙ্গে শেয়ার করা তথ্যগুলির মধ্যে একমাত্র ইঞ্জিনের একটি নকশা ছিল স্পর্শকাতর, যা একাধিক অনুরোধের পর শেয়ার করা হয়েছিল, এবং তা ছিল যুবকের প্রশিক্ষণ প্রকল্পেরই অংশ। অধিকাংশ কথোপকথনই ছিল প্রাথমিক পর্যায়ের এবং যুবক অনেক সময় তথ্য দিতে অস্বীকারও করেছিলেন।
আদালত জানিয়েছে, এখনকার তরুণরা যদি সতর্ক না হন, তাহলে এমন পরিস্থিতি আরও বাড়তে পারে। যুবকের ফোন থেকে কোনও তথ্য মুছে ফেলা হয়নি, তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। এমনকি অধিকাংশ বার্তালাপ অর্থের বিনিময়েও হয়নি বলে দেখা গেছে।
আদালত স্পষ্ট করে দেয়, এই ঘটনা যেন উদাহরণ হয়ে ওঠে সমাজের কাছে—ভবিষ্যতে যেন কেউ সোশ্যাল মিডিয়ার ফাঁদে পড়ে নিজেদের ও দেশের ক্ষতি না করে।