
শেষ আপডেট: 15 January 2024 16:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেমের টানে কেউ কতদূর যেতে পারে? একেক জন, একেক রকম উত্তর দেবে নিশ্চয়ই। ধারণা করাই যায়, কেমন উত্তর আসতে পারে। পাঞ্জাবের এক যুবক যে কীর্তি করেছেন তা সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন মনে রাখবেন দমফাটা হাসির খোরাক হিসেবে। শুধু ভালোবাসার মানুষকে সাহায্য করতে ওই যুবক তাঁর প্রেমিকারই ছদ্মবেশ নিয়েছিলেন! আর এ জন্য তিনি ব্যবহার করেছিলেন গুচ্ছ গুচ্ছ মেকআপ।
সম্প্রতি ৭ জানুয়ারির এক ঘটনা সামনে এসেছে। পাঞ্জাবের ফরিদকোটের এক পরীক্ষাকেন্দ্রে তখন তোলপাড় চলছে। একজন মহিলাকে পাকড়াও করা হয়েছে। কিন্তু কী এমন ঘটল? না, কোনও নকলের অভিযোগ নয়। বরং যাকে পাকড়াও করা হয়েছিল সে কোনও মেয়েই নয়! আসলে আংরেজ সিং নামের এক যুবক তাঁর প্রেমিকা পরমজিৎ কৌর সেজে এসেছিলেন পরীক্ষা দিতে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরীক্ষকদের সন্দেহ হয়। প্রাথমিকভাবে কোনও প্রমাণ যদিও তারা পাননি, কিন্তু সত্যি উদ্ঘাটন করে দেয় মর্ডান প্রযুক্তি।
বাবা ফরিদ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্স কোটকাপুরায় ডিএভি পাবলিক স্কুলে স্বাস্থ্য কর্মীদের নিয়োগের জন্য এক পরীক্ষার আয়োজন করেছিল। ফাজিলকার বাসিন্দা আংরেজ তাঁর প্রেমিকার হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে যায়। নিজের প্রেমিকা হয়ে উঠতে সে ব্যবহার করে সালোয়ার স্যুট, লাল টিপ, হাতে বড় বড় বালা, মুখে মেকআপ। কিন্তু পরীক্ষা হলে পৌঁছনোর কিছু পরই তাঁর সমস্ত পরিকল্পনা বানচাল হয়ে যায়। পরীক্ষাকেন্দ্র থেকেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, আংরেজ সিং নামের এই যুবক শুধু যে মেকআপ ব্যবহার করে এমন কাজ করেছে এমনটা নয়। নিজেকে নিজের প্রেমিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সে ব্যবহার করেছে ভুয়ো আধার কার্ড, ভোটার কার্ডও। পরিকল্পনামাফিক সব ঠিকই ছিল। কিন্তু বায়োমেট্রিক ডিভাইসে আঙুলের ছাপ দেওয়ার সময়ই সব গন্ডগোল হয়ে যায়। জানা গিয়েছে, আংরেজের এমন করার কারণ, তাঁর প্রেমিকা পরমজিতের অ্যাপ্লিকেশন বাতিল হয়ে যাওয়া। বর্তমানে আংরেজের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।