সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন - সুপ্রিম কোর্টের মধ্যেই প্রধান বিচারপতির ওপর হামলার ঘটনায় আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বি আর গাভাই এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 6 October 2025 21:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের (CJI B.R. Gavai) দিকে জুতো ছোড়ার চেষ্টা করেন এক আইনজীবী। এই নজিরবিহীন ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সব মহল থেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee) কড়া সমালোচনা করেছেন ঘটনাটির।
কংগ্রেস সংসদীয় দলনেত্রী সনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi) আগেই এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ''ঘটনায় যে ধাক্কা লেগেছে, তা কেবল একজন ব্যক্তির প্রতি নয় — আমাদের সংবিধানের মূল ভাবনার প্রতিও এ এক সরাসরি আঘাত।'' আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, 'সংবিধানের ওপর নিন্দনীয় হামলা।'
সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন - সুপ্রিম কোর্টের মধ্যেই প্রধান বিচারপতির ওপর হামলার ঘটনায় আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটা সরাসরি দেশের সংবিধানের ওপর আক্রমণ হল। অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয় ঘটনা।
I condemn the attack today on the Chief Justice of India Justice B R Gavai ji in the Supreme Court premises. This has been a most outrageous thing and effectively an assault on the Constitution of India.
I personally respect Justice Gavai and send him my regards from the…— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) October 6, 2025
কী ঘটেছিল আদালতে?
৭১ বছর বয়সি আইনজীবী রাকেশ কিশোর সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা উল্লেখের সময় হঠাৎই প্রধান বিচারপতির দিকে এগিয়ে এসে নিজের জুতো খুলে ছোড়ার চেষ্টা করেন। আদালতের নিরাপত্তারক্ষীরা তৎক্ষণাৎ তাঁকে আটক করে বাইরে বের করে দেন। পরে জানা যায়, ওই আইনজীবী ‘খাজুরাহো মন্দির’ সংক্রান্ত মামলায় প্রধান বিচারপতির মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি এক কাগজে লিখেছিলেন— “সনাতন ধর্মের অপমান সহ্য করবে না হিন্দুস্থান।”
ঘটনার পর যখন পুলিশ প্রধান বিচারপতির নির্দেশ জানতে চায়, তখন বিচারপতি গাভাই বলেন, “এসব উপেক্ষা করুন। ওঁকে সতর্ক করে ছেড়ে দিন।” তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনজীবীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই ভারতের বার কাউন্সিল আইনজীবী রাকেশ কিশোরকে আপাতত সাসপেন্ড করে জানিয়েছে, আদালতের শালীনতা লঙ্ঘনের জন্য এটি একটি গুরুতর অপরাধ।
যদিও এই ঘটনায় বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে নির্বিকার থেকেই বিচারপতি গাভাই মন্তব্য করেছেন, 'আমি এমন বিষয়ে প্রভাবিত হই না'। শুধু তাই নয়, এরপর তিনি শুনানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। একজন আইনজীবী জানিয়েছেন, চিফ জাস্টিস পুরো সময়ই শান্ত ছিলেন।