
শেষ আপডেট: 15 January 2024 08:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৫ মার্চ অবধি ডেডলাইন দিয়েছে মলদ্বীপ সরকার। তার মধ্যেই ভারতকে সেনা সরাতে বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গেই এবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বললেন, “রাজনীতি আসলে রাজনীতিই। এখানে কোনও কিছুই গ্যারান্টি দেওয়া যায় না।”
অতীতে প্রায় সব সময় ভারতের পাশে ছিল মলদ্বীপ। মহম্মদ মুইজ্জু প্রেসিডেন্ট পদে বসার পর থেকেই দূরত্ব বেড়েছে। চিনপন্থী মুইজ্জু গদিতে বসার পরই ভারতকে সেনা প্রত্যাহার করতে বলেছিল। এখন মলদ্বীপ-ভারত সম্পর্কের টানাপড়েনের সময়ও ফের একবার মলদ্বীপ থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা বলছে মুইজ্জু সরকার। এই প্রসঙ্গে শনিবার একটি কর্মসূচিতে বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘‘রাজনীতি আসলে রাজনীতিই। আমি কখনওই গ্যারান্টি দিতে পারব না যে, সব দেশে প্রতিদিন প্রত্যেক মানুষ আমাদের সমর্থন করবেন, বা আমাদের পাশে থাকবেন।’’ তবে তিনি মনে করেন, গত ১০ বছর ধরে পৃথিবীর বাকি দেশের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেছে ভারত।
জয়শঙ্কর আরও বলেন, ‘‘গত ১০ বছর ধরে আমরা চেষ্টা করছি যাতে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়। এও দেখা হচ্ছে যে এর মাঝে কোনও রাজনৈতিক চাপানউতর তৈরি হলেও যাতে সেই দেশের মানুষের ভারতের প্রতি সুন্দর অনুভূতি থাকে, তাঁরা যাতে বোঝেন যে, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই চেষ্টাই করা হয়েছে।’’
বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছে 'মলদ্বীপ বনাম লাক্ষাদ্বীপ' বিতর্ক। সম্প্রতি লাক্ষাদ্বীপে ঘুরতে গিয়ে বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপরই মোদী এবং ভারতকে নিয়ে আপত্তিজনক কিছু মন্তব্য করেছিলেন মলদ্বীপের কয়েকজন মন্ত্রী। এরপর থেকেই ওঠে মলদ্বীপ বয়কটের রব। যদিও মলদ্বীপের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, মোদীকে তিন মন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তাকে সমর্থন করে না দ্বীপরাষ্ট্র। এই মন্তব্য ‘গ্রহণযোগ্য’ নয়। এরপরেও ভারত-মলদ্বীপ সম্পর্ক সহজ না হাওয়ায় চিনে গিয়ে একগুচ্ছ চুক্তি সেরে আসেন মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু। এমনকী চিন সবচেয়ে কাছের বন্ধু এ কথাও বলেন তিনি। এসবের মাঝে চিনেরই প্ররোচনা দেখছে নয়াদিল্লি। কূটনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, ভারতকে অবমাননা করার পিছনে বেজিংয়ের অদৃশ্য রিমোট কাজ করেছে। ভারতের থেকে অনেক পরে মলদ্বীপের সঙ্গে পাকাপোক্ত সম্পর্ক তৈরির কাজ শুরু করেছিল বেজিং। ২০১১ সালে সে দেশে দূতাবাস খোলে চিন। কিন্তু এর মধ্যেই দ্বীপরাষ্ট্রটিকে কার্যত হাতের মুঠোয় নিয়ে নিয়েছে শি চিনফিংয়ের সরকার। কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, উন্নয়নের আড়ালে সেখানে নিজেদের কৌশলগত ঘাঁটি তৈরি করছে চিন যা ভারতের জন্য ত্রাসের কারণ।