
শেষ আপডেট: 29 December 2023 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘুরে বেড়ানোর বড় শখ অগ্নির। সেই সুদূর নামিবিয়া থেকে তাকে উড়িয়ে এনেছিল মোদীর প্লেন। তারপর থেকে কুনো জাতীয় অরণ্যেই দিন কাটছিল পূর্ণবয়স্ক এই পুরুষ চিতার। গলায় রেডিও কলার, সর্বক্ষণ নজরবন্দি থাকতে থাকতে হয়ত হাঁপিয়ে উঠেছিল সে। বড়দিনে সন্ধেয় একটু ঘুরতে যাবে ভেবে চুপিচুপি কুনো থেকে পালিয়েছিল। তারপর হেলেদুলে পৌঁছে গিয়েছিল সেই রাজস্থানে। সেখান থেকে অবশেষে তাকে ফিরিয়ে আনলেন কুনো ন্যাশনাল পার্কের আধিকারিকরা।
অগ্নি বরাবরই একগুঁয়ে। সংসার করতে নাকি বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই তার। কুনো ন্যাশনাল পার্কে পরপর ৯টি চিতার অকাল মৃত্যুর পরে আরও তিনটি চিতা ছাড়া হয়েছিল ডিসেম্বরের ১৭ তারিখে। তার মধ্যেই ছিল অগ্নি। আরও একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী চিতাকেও আনা হয়েছিল তার সঙ্গে। কিন্তু কুনোতে আসার পর থেকে অগ্নি কারও দিকে ফিরেও তাকায়নি। স্ত্রী চিতাদের প্রতিও নাকি কোনও আগ্রহ নেই তার। ঘুরে বেড়াতে দারুণ ভালবাসে সে। কুনোর কর্মকর্তারা বলছেন, আগেও পালানোর চেষ্টা করেছিল অগ্নি। কিন্তু পারেনি। সিসিটিভি ক্যামেরার কড়া নজরদারিতে আটকা পড়ে যায় সে। তারপর থেকেই হয় পালানোর ফিকির খুঁজছিল।
বড়দিনের সন্ধেয় কুনো ন্যাশনাল পার্ক লাগোয়া গ্রামে তখন সেলিব্রেশন চলছে। চারদিকেই উৎসবের মেজাজ। এই ফাঁকে সবার নজর এড়িয়ে অগ্নি গুটিগুটি পৌঁছে যায় জঙ্গলের শেষ সীমান্তে। সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে সোজা ঢুকে যায় রাজস্থানে।
বন আধিকারিকরা বলছেন, কুনো থেকে চিতা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর ঢি ঢি পড়ে যায়। কর্মকর্তারা দেখেন অগ্নিই পালিয়েছে। এরপর তার রেডিও কলার ট্র্যাক করে দেখা যায় রাজস্থানের বরন জেলায় পৌঁছে গেছে অগ্নি। গ্রামের পর গ্রাম পার হয়ে পছন্দমতো একটা জঙ্গল খুঁজে নিয়েছে। এক রাতেই প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিল কুনোর চিতা।
বড়দিনের পরদিনই রাজস্থানে ছোটেন কুনোর আধিকারিকরা। রাজস্থানে বন আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। হরন জেলার ওই জঙ্গলে ঢুকেই দেখেন অগ্নি বহাল তবিয়তে রয়েছে। রাতভর হাঁটার পর জিরিয়ে নিচ্ছে একটু। তাকে খাঁচায় ঢোকানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। কারণ কুনোয় আর ফিরতেই চাইছিল না একগুঁয়ে অগ্নি। হয়ত নতুন জায়গা ঘুরে দেখার ইচ্ছে ছিল তার। শেষ পর্যন্ত ঘুমপাড়ানি গুলিতে অজ্ঞান করে তাকে ফিরিয়ে আনা হয় কুনোতে।
অগ্নির শারীরিক পরীক্ষা হয়েছে। সে সুস্থই আছে। তবে কুনোর কর্মকর্তাদের উপর সে নিশ্চয়ই বেজায় বিরক্ত!