
শেষ আপডেট: 26 February 2024 15:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লাক্ষাদ্বীপ ঘুরে এসে দেশবাসীকে জানান, তিনি মুগ্ধ দ্বীপের অসামান্য সৌন্দর্যে। এই দ্বীপ যাত্রা তাঁকে সমৃদ্ধ করেছে, শিক্ষিত করেছে। তিনি দেশের এই দ্বীপভ্রমণে ভারতীয় পর্যটকদের উৎসাহিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আপাত মুগ্ধতার আড়ালে কোনও কূটনৈতিক পদক্ষেপ ছিল কিনা স্পষ্ট নয়, কিন্তু মোদীর এই মুগ্ধতা প্রকাশের পরই মলদ্বীপের তিন মন্ত্রী-আধিকারিক ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে বসেন। কারণ মলদ্বীপের অর্থনীতি অনেকটাই পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল এবং পর্যটকদের সিংহভাগই হলেন ভারতীয়। লাক্ষাদ্বীপ ভারতীয় পর্যটকদের গন্তব্য হয়ে উঠলে সরাসরি তার প্রভাব পড়বে মলদ্বীপের পর্যটন অর্থনীতিতে।
মলদ্বীপের মন্ত্রীদের বেলাগাম মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়ে দেশজুড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ড হয়ে ওঠে বয়কট মলদ্বীপ। বলিউড থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন সেলিব্রিটিরা গর্জে ওঠেন দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অসম্মানজনক উক্তির প্রতিবাদে। একই সঙ্গে গুগল সার্চে লাক্ষাদ্বীপ চলে আসে প্রথমদিকে। মলদ্বীপ নয় এবার সকলে যাবেন লাক্ষাদ্বীপে এমন অনুরোধ করতে থাকেন বলিউড তারকা সলমন খান, অক্ষয় কুমার, শ্রদ্ধা কাপুর, জন আব্রাহাম। সবাই ধরেই নেন এবার লাক্ষাদ্বীপে উপচে পড়বে ভিড়, পর্যটন শিল্পের প্রায় বিস্ফোরণ ঘটবে দেশের এই কেন্দ্রশাসিত দ্বীপ রাজ্যে।
তারপর কেটে গেছে প্রায় দেড় মাস। সম্প্রতি ডিজিসিএ (অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক) তাঁদের এক পরিসংখ্যান রিপোর্টে জানিয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে লাক্ষাদ্বীপে যাওয়ার জন্য কোচি থেকে আগত্তি দ্বীপ পর্যন্ত যাত্রী সংখ্যা ছিল ২৩১২ জন, গত বছরের একইসময় এই সংখ্যাটি ছিল ২২৫৩। অর্থাৎ মলদ্বীপ বয়কটের ডাকের পর জানুয়ারিতে লাক্ষাদ্বীপে ৫৯ জন যাত্রী বেশি গেছেন। যদি ধরে নেওয়া হয় তাঁরা সকলেই পর্যটক তাহলেও দ্বীপরাষ্ট্রটিকে বয়কটের প্রভাব লাক্ষাদ্বীপের পর্যটন ক্ষেত্রটিকে বিশেষ উপকার করেনি। পরিসংখ্যান অন্তত তাই বলছে।
মলদ্বীপ বয়কটের ডাকে লাক্ষাদ্বীপের তেমন লাভ না হওয়ার কারণ অবশ্য বিমানের অপ্রতুলতা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিল্পের বিশেষজ্ঞরা। কোচি থেকে আগত্তি যাওয়ার সারাদিনে মাত্র একটিই বিমান যার অধিকাংশ সময়ই সমস্ত আসন পূর্ণ থাকে। অপেক্ষমান অর্থাৎ ওয়েটিং লিস্টে থাকা যাত্রীদের তালিকাটিও দীর্ঘ। এই পরিস্থিতিতেই আগামী দিনে এই রুটে পরিষেবা দেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইন্ডিগো সহ অন্যান্য সংস্থা। স্পাইস জেটের তরফে জানানো হয়েছে তারাও এই রুটে খুব দ্রুত পরিষেবা চালু করতে চলেছে।
আয়তন ও ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রের কারণে এই দ্বীপপুঞ্জকে গণ-পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যথাযথ হবে কিনা সেটা নিয়ে পরিবেশবিদদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কিন্তু লাক্ষাদ্বীপকে ঘিরে যে প্রবল দেশপ্রেমের ঝড় উঠেছিল, সে আবেগ দেশের এই দ্বীপরাজ্যের অর্থনীতিতে এখনও পর্যন্ত তেমন প্রভাব ফেলতে পারল না।