
মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও সিপিএম বিধায়ক মুকেশ।
শেষ আপডেট: 29 August 2024 17:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালয়ালম সিনেমার প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা তথা সিপিএম বিধায়ক এম মুকেশ বৃহস্পতিবার আদালতে সাময়িক স্বস্তি পেলেও যৌন নিগ্রহের অভিযোগ সত্ত্বেও তাঁর পাশে দাঁড়ালেন কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। ২৭৫টির বেশি মালয়ালম ছবির অভিনেতা, কেরলের কোল্লাম-এর সিপিএম বিধায়কের পদত্যাগ কিংবা পার্টি থেকে বরখাস্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সেই প্রতিবাদের ঝড়ের মুখে মুকেশ এদিন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি যৌন নিগ্রহের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে পার্টি তাঁর পাশে আছে বলে জানিয়েছেন বিজয়ন।
মুকেশের ইস্তফার দাবিতে যখন তোলপাড় চলছে রাজ্য রাজনীতিতে, তখন দল বিধায়কের পাশে দাঁড়ানোয় বিরূপ আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলি তাঁকে বিধায়ক পদে রাখার ব্যাপারে কোনও আপত্তি তোলেনি। এনিয়ে বামফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল সিপিআইয়ের ওজরআপত্তি মানছে না সিপিএম। সিপিআইয়ের জাতীয় নেতৃত্ব মুকেশের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি তুলেছিল। সিপিএমের যুক্তি হল, রাজ্য সিপিআই এনিয়ে এখনও মুকেশকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রবীণ সিপিআই নেতা অ্যানি রাজা মুকেশকে পদত্যাগ করে তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার পরামর্শ দেন। তারপরেই অভিনেতা থেকে বিধায়ক হওয়া মুকেশ সরাসরি যোগাযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের সঙ্গে। তিনি অবশ্য মুকেশকে অভয়বাণী শুনিয়েছেন।
এদিকে, এরনাকুলাম জেলা দায়রা আদালত এদিন যৌন নিগ্রহের অভিযোগের মামলায় মুকেশকে খানিকটা স্বস্তি দিয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিধায়ককে গ্রেফতার করা চলবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন দায়রা বিচারক। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ওইদিনই। তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে এই আশঙ্কায় তিনি আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। তার ভিত্তিতে আদালত গ্রেফতারিতে পাঁচদিনের স্থগিতাদেশ দেয়।
যদিও মুকেশকে গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন ১০০ লেখক-সমাজকর্মী মহিলার একটি দল। একটি যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্র অভিনেতা এবং কোল্লামের বিধায়ক মুকেশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ব্যক্তিগত এবং সামাজিক দুদিকেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তিন মহিলা অভিনেতার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ করেছেন পুলিশে। তাঁর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা, ধর্ষণ এবং যৌন নিগ্রহের অভিযোগ আছে। সুতরাং, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করলে অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।