
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 10 April 2025 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের মানুষের কাছে তাহাউরের প্রত্যর্পণ 'প্রতিশোধে'র সমান, বৃহস্পতিবার বললেন ২৬/১১ মুম্বই হামলায় শহিদ এনএসজি কম্যান্ডো মেজর সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণনের বাবা কে. উন্নিকৃষ্ণন। তিনি মনে করেন তাহাউরের মতো মানুষকে ভারতে ফেরানো শুধু কূটনাতিক জয় বললে কম বলা হবে। এটা দেশবাসীর কাছে প্রতিশোধ নেওয়ার সমান। তিনি মনে করেন, এক্ষেত্রে ওই হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী ডেভিড হেডলিকেও ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার সময় ৩১ বছর বয়সি মেজর সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণন ১০ জন কমান্ডোর একটি দল নিয়ে তাজ হোটেলে গেছিলেন। গুলির লড়াই চলার সময় মেজর উন্নিকৃষ্ণন জখম হন। সেই অবস্থাতেই সহকর্মীদের উদ্ধার করে নিজে একাই সন্ত্রাসবাদীদের ধাওয়া করেন এবং হোটেলের আরেক প্রান্তে তাদের কোণঠাসা করেন। ওই লড়াইয়ে তিনিও শেষমেষ পরাজিত হন। সহকর্মীদের মতে, তাঁর শেষ কথা ছিল—'ওপরে এসো না, আমি সামলে নিচ্ছি।'
এই অসীম সাহসিকতা ও আত্মবলিদানের জন্য তাঁকে ‘অশোক চক্র’ প্রদান করা হয়। ওই সম্মানে বলা হয়, 'মেজর সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণন অসাধারণ সাহসিকতা, সহমর্মিতা এবং নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন পাশাপাশি দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।'
ঘটনার ১৬ বছর পর, তাঁর বাবার কথায় ফুটে ওঠে ছেলের সেই আত্মত্যাগের কথা। তিনি বলেন, 'সন্দীপ ২৬/১১-র কোনও ভিকটিম নয়। সে একজন নিরাপত্তা কর্মী, যে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছে। ও জানত, ফিরবে না। ও যদি মুম্বইয়ে না করত, তবে অন্য কোথাও করত। আমাদের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত—এই ধরনের হামলা আটকানো যাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়।'
তাহাউর রানার প্রত্যর্পণ নিয়ে তাঁর মত, 'নিশ্চয়ই এটি সফলতা। সাধারণ মানুষের কাছে এটা প্রতিশোধের মতো—আমরা এক দোষীকে ধরতে পেরেছি।'
রানার প্রত্যর্পণে কি নিহত ১৬৬ জনের পরিবারের জন্য কোনও ‘ক্লোজার’ এল? উত্তরে তিনি বলেন, 'এটা ক্লোজার নয়। আমাদের ডেভিড হেডলিকেও ধরতে হবে। যারা টাকার জন্য কাজ করে তারা সবাই তো যন্ত্র। এরা আমাদের প্রতিবেশী দেশের কোনও সংস্থার হয়ে কাজ করছিল। কিন্তু যারা এর পেছনে রয়েছে, তাদের এখনও আমরা ধরতে পারিনি, যদিও প্রমাণ হাতে আছে। তবুও এটা নিঃসন্দেহে একটা বড় পদক্ষেপ, যদিও দেরিতে হয়েছে। আমি আশা করি, সবাই একদিন শাস্তি পাবে।'
এদিন বিশেষ একটি বিমান করে তাহাউর রানাকে ভারতে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং দিল্লিতে বিকেলের মধ্যে তাঁর পৌঁছনোর কথা। এরপর এনআইএ-র আধিকারিকরা শুরু করবেন জিজ্ঞাসাবাদ। কে. উন্নিকৃষ্ণন জানান, তিনি বিশ্বাস করেন এনআইএ সব প্রশ্ন নিয়ে প্রস্তুত আছে। এই রানা শিক্ষিত মানুষ। এনআইএ-র কাছে সব তথ্যই ছিল, শুধু ওর জন্য অপেক্ষা করছিল। এখন দেখা যাক, কী বেরিয়ে আসে।