
শেষ আপডেট: 18 December 2023 15:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেওয়াল লিখন ও বিজেপির অভিপ্রায় স্পষ্টই ছিল। হলও তাই। প্রশ্ন ঘুষ কাণ্ডে শেষমেশ কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে লোকসভা থেকে বরখাস্ত করা হল।
মহুয়ার বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন তোলার যে অভিযোগ ছিল তা খতিয়ে দেখে অনেক আগেই এথিক্স কমিটি তাদের সুপারিশ জানিয়ে দিয়েছিল। সেই সুপারিশে মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজের কথা বলা হয়েছিল। শুক্রবার এথিক্স কমিটির সেই সুপারিশ লোকসভায় পেশ করা হয়। তার পর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে স্বপ্ল সময়ের জন্য বিতর্ক হয় লোকসভায়। এর পরই সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীর আনা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি করে লোকসভা থেকে মহুয়া মৈত্রকে বহিষ্কার প্রস্তাবে সিলমোহর দেন স্পিকার ওম বিড়লা।
ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এও এক মাইলফলক। মহুয়া বিরুদ্ধে প্রথমবার অভিযোগ তোলা হয়েছিল অক্টোবর মাসের ১৭ তারিখ নাগাদ। তার পর আড়াই মাসের মধ্যে এথিক্স কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে যেভাবে তাঁকে বহিষ্কার করা হল, এত তড়িঘড়ি সম্ভবত আগে কখনও ঘটেনি।
এদিন সংসদে দুপুর ১২টায় এথিক্স কমিটির রিপোর্ট পেশ হয়। তার পর দুপুর ২টোতেই ওই রিপোর্টের উপর আলোচনা শুরু করে দেন স্পিকার। এ ব্যাপারে বলতে উঠে লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, স্যার কোনও সাধারণ মানুষের পক্ষে কি সম্ভব, দু’ঘণ্টার মধ্যে ৪৯৫ পৃষ্ঠার রিপোর্ট পড়ে ফেলা!
মহুয়া মৈত্রকে এভাবে সংসদ থেকে বহিষ্কার করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অধীর। তাঁর কথায়, মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে কোনও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তার আগেই তাঁকে শাস্তি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে এদিন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, মহুয়াকে অন্তত একবার বলার সুযোগ দেওয়া হোক। কারণ, মহুয়ার বিরুদ্ধেই অভিযোগ। তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু স্পিকার তার জবাবে জানিয়ে দেন, অতীতে প্রশ্ন ঘুষ কাণ্ডে বিতর্কের সময়ে তৎকালীন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ও অভিযুক্তদের বলার সুযোগ দেননি। তাই এবারও মহুয়াকে বলতে দেওয়ার প্রশ্নই নেই।
স্পিকারের এ কথা শুনে মহুয়া সুদীপ-কল্যাণদের বলেন, তৃণমূল এই বিতর্ককে বয়কট করুক। কিন্তু তাতে রাজি হননি শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিতর্কে অংশ নিয়ে কল্যাণ বলেন, লোকসভায় যেহেতু মহুয়া ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে, তাই লোকসভার ভূমিকা এখানে আধা বিচারবিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের মতই। এই ধরনের বিচারের শর্তই হল অভিযুক্তকে বলতে দেওয়া।
তবে স্পিকার এই আবেদন শুনতেই চাননি। তিনি সংসদীয় মন্ত্রীকে প্রস্তাব পেশ করতে বলেন। যেহেতু লোকসভায় বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। তাই অনায়াসে সেই প্রস্তাব লোকসভায় পাশ হয়ে যায়। সংসদ থেকে মহুয়াকে বহিষ্কারের পক্ষেই রায় দেয় লোকসভা।