ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 January 2025 15:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স ৩৬ বছর। নাম মহেশ কোরসা। না, আর পাঁচজন মানুষের কাছে তিনি একেবারেই পরিচিত নাম নয়। কিন্তু এই নামই কয়েকদিন আগে পর্যন্ত রীতিমতো দাপট দেখিয়েছে ছত্তীসগড়ে। মাওবাদীদের হিংসাত্মক কাজকর্মের প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছিল নামটি। যা রীতিমতো দুশ্চিন্তার কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছিল সুকমা জেলার পুলিশের। কিন্তু গত সপ্তাহে গুলির লড়াইয়ে নিহত ৩ মাওবাদীদের মধ্যে মহেশকেও খতম করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
কে এই মহেশ কোরসা?
পুলিশ জানিয়েছে, আইইডি স্পেশ্যালিস্ট ছিল মহেশ। ২০১৭ সাল থেকেই একাধিক নিরাপত্তা কর্মীকে মাথা খাটিয়ে প্রাণে মেরেছে সে। ২০১৭ সালে ২৫, ২০২০ সালে ১৭ এবং ২০২১ সালে কমপক্ষে ২২ জন পুলিশকে বিস্ফোরণের ফাঁদে পা দিতে বাধ্য করেছে। মোট ৭৭ জনকে এনকাউন্টার করেছে সে। এছাড়াও আরও একাধিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল কোরসা।
সুকমার পুলিশ সুপার কিরণ চৌহান জানান, ‘এর আগে একাধিকবার পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালালেও, তার উপস্থিতি সবসময় টের পেয়েছি আমরা। কিন্তু গত ৪ জানুয়ারি অভিযুক্ত মাওবাদী নেতার উপস্থিতি টের পেয়ে ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড, স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স এবং এলিট কম্যান্ডো ব্যটেলিয়নের যৌথ দল তল্লাশি অভিযানে নামে। ঠিক চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই পালিগুড়ার পাহাড়ি জঙ্গলে এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় মহেশের।’
নিষিদ্ধ সংগঠন পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মির ডেপুটি প্লাটুন কমান্ডার ছিল মহেশ। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে কমপক্ষে তিনবার মাওবাদীদের উপর পুলিশ চড়াও হলে ইনসাস রাইফেল চালিয়ে কয়েকজনকে গুলি করে খুন করে সে। এছাড়াও গত বছরের জুন মাসে সুকমার টিমাপুরম এলাকায় দুটি পুলিশ ক্যাম্পের মধ্যে আইইডি লাগিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল অভিযুক্ত। ঘটনায় দুই কোবরা জওয়ান শহিদ হন।
এখানেই শেষ নয়, মহেশের কীর্তির শেষ নেই। গত নভেম্বরে জাগারগুন্ডায় প্রকাশ্যে দুই পুলিশ কর্মীকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাড়াও করেছিল সে এবং তাঁদের থেকে একটি একে ৪৭ রাইফেল ও একটি সেলফ লোডিং রাইফেল লুঠ করে চম্পট দেয় সে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১০ সালে নকশালদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পরেই ২০১৭ সালের মধ্যে আইইডি লাগাতে ওস্তাদ হয়ে ওঠে। তারপর থেকেই প্রায় আট বছরেরও বেশি সময় বস্তার অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে আইইডি বিস্ফোরণে উঠেছে এসেছে মহেশের নাম।
তবে শুধু নিজেই নন, স্ত্রী হেমলা-সহ অনান্য মাওবাদী ক্যাডারদেরও একাধিক কৌশল শিখিয়েছিলেন। সংগঠনের ডাক্তার হিসাবেও দায়িত্ব সামলাতে দেখগা গিয়েছে মহেশকে।
সুকমা পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১৫ সালে প্রথম একটি এনকাউন্টারে নাম উঠেছিল তার। সেখানকার পিডমেল জঙ্গলে মাওবাদীদের সঙ্গে গুল্লির লড়াইয়ে সাতজন এসটিএফ জওয়ান শহিদ হন এবং ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছিলেন।