.jpeg)
শেষ হাসিটা কে হাসবে সেই জল্পনা এখন তুঙ্গে। গ্রাফিক্স-শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 22 November 2024 13:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট শেষ। বুথফেরত সমীক্ষাও শেষ। এখন আগামিকাল, শনিবার সকাল থেকে ফলপ্রকাশের পালা। ভোটারদের মতদানের সমীক্ষায় শাসক জোট মহায়ুতি এগিয়ে থাকলেও, বিরোধী জোট মহা বিকাশ আঘাড়িও খুব পিছিয়ে নেই। তারাও আশা করছে, কাঁধে কাঁধ রেখে লড়াইটা হবে। ফলে সরকার গঠনের ইঁদুর দৌড়ে শেষ হাসিটা কে হাসবে সেই জল্পনা এখন তুঙ্গে। তাই ঝোপ বুঝে কোপ মারতে শুক্রবার থেকেই কোমর বাঁধছে দুই শক্তির ভরকেন্দ্র। বিজয়ী বিধায়কদের জোটের খুঁটিতে বেঁধে রাখতে ও দ্রুত তুলে আনতে এখন থেকেই মহারাষ্ট্র, গুজরাত, গোয়ার হোটেল-রিসর্ট এবং হেলিকপ্টার বুক করে রাখা হচ্ছে।
মহায়ুতির পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের শিবসেনা, শারদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ারের এনসিপি এবং বিজেপির উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এই রিসর্ট-রাজনীতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের নেতা শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে, সঞ্জয় রাউত, এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ার ও কংগ্রেস নেতৃত্ব পালটা রিসর্ট রাজনীতি শুরু করে দিয়েছেন। এই অবস্থায় মহারাষ্ট্র সহ আশপাশের বিজেপি ও কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের হোটেল-রিসর্ট ও হেলিকপ্টার বুকিং প্রায় শেষ পর্বে।
রাজ্য রাজনীতির অন্দরের খবর, ইতিমধ্যেই জেতার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত এমন বিধায়ক পদপ্রার্থীদের নিজ নিজ নেতৃত্ব নিয়ে আসতে শুরু করেছে। রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৫টি আসন। সেখানে অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষা মহায়ুতির পক্ষে রায় দিলেও মহা বিকাশ আঘাড়ি এখনই দান ছাড়তে রাজি নয়। বিশেষত অনেক নেতা সুযোগ বুঝে সরকারি জোটে ভিড়ে যেতে পারেন এই সন্দেহে বিরোধী জোটের তৎপরতা বেশি।
অন্যদিকে, একনাথ শিন্ডে যখন শিবসেনা ভেঙেছিলেন, তখন তিনিও অনুগামী তথা উদ্ধব বিরোধী বিধায়ক-মন্ত্রীদের নিয়ে ভিনরাজ্যের রিসর্টে গিয়ে উঠেছিলেন। সেই সময় ঠাকরে সরকার ভাঙার অন্যতম কারিগর ছিলেন বিজেপির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ।
এই নির্বাচনে জেতার বিষয়ে বিজেপি নেতৃত্বের অনেকেই ১০০ শতাংশ নিশ্চিত থাকায় কংগ্রেস, উদ্ধব সেনা ও শারদ এনসিপি নেতৃত্ব সম্ভাব্য বিজয়ীদের সমর্থন নিয়ে ভরসা করতে পারছে না। তাই এখন থেকেই ফোনে ফোনে সকলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
মহারাষ্ট্রের বিজেপি সভাপতি চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে বলেন, আমরা ম্যাজিক ফিগারের থেকেও অনেক বেশি আসনে জিতব। আমাদের বর্তমানে ১০৫ জন বিধায়ক আছেন। এবার আরও বেশি আসনে জিতব। একনাথ শিন্ড ও অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীও ভালো ফল করবে বলে তাঁর দাবি। সরকার গড়তে কোনও নির্দলের সমর্থন আমাদের প্রয়োজন পড়বে না। তা সত্ত্বেও কেউ সমর্থন দিতে চাইলে আমরা তা নেব। কারণ নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নের জন্য নির্দল বিধায়করা সরকারের দিকেই ঝুঁকে থাকতে পছন্দ করেন।
অন্যদিকে, মহা বিকাশ আঘাড়ি ভয় পাচ্ছে যে, ত্রিশঙ্কু ফল হলে বিজেপি এবারেও 'অপারেশন কমল' ছকে নামবে। তাই একটিও বিধায়ক যাতে টাকার টোপে হাতছাড়া না হয়, তার জন্য গোপনে কৌশল করছে। বৃহস্পতিবার রাতে মুম্বইয়ের একটি হোটেলে প্রায় ২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এই কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন কংগ্রেসের বালাসাহেব ঠোরাট, শারদ পাওয়ারের বিশ্বস্ত অনুচর জয়ন্ত পাটিল এবং উদ্ধব ঠাকরের ছায়াসঙ্গী সঞ্জয় রাউত। পরে তাঁরা উদ্ধব ঠাকরে এবং শারদ পাওয়ারের সঙ্গে পৃথকভাবে দেখা করেন।
ঠোরাট আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, ২৮৮টি আসনের পর্যালোচনা করেছি আমরা। দেখেছি সহজেই ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছে যাব। আমাদের বাইরে থেকে সমর্থনের প্রয়োজন পড়বে না। এই অবস্থায় মহা বিকাশ আঘাড়ি ভোটগণনায় কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। সঞ্জয় রাউতও জোর দিয়ে বলেন, আমরা ১৬০-১৬৫টি আসন পাব এবং শনিবার সন্ধ্যাতেই রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাব।