
মহন্ত রাজু দাস
শেষ আপডেট: 24 June 2024 16:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর প্রদেশে হাতে থাকা ৬৫ আসনের অর্ধেকের বেশি আসনে বিজেপি এবার হেরে গিয়েছে। দলের এমন পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানে কমিটি গড়েছে বিজেপি। নেতারা তাই মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে ব্যতিক্রম ফৈজাবাদ। ওই লোকসভা আসনে বিজেপির হার কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না গেরুয়া শিবির। বিজেপির পাশাপাশি অযোধ্যার সাধু সমাজও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে।
রাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিত আচার্য সত্যেন্দ্র দাস প্রকাশ্যেই বলেছেন, বিজেপি নেতাদের অহংকারই হারের কারণ। তাঁরা মনে করেছিলেন রাম মন্দির তৈরি হয়ে গেছে। ভগবান রামই বিজেপিকে জিতিয়ে দেবেন। ভগবান কাউকে ভোটে জেতান না।
রাম মন্দির থেকে ঢিল ছোড়া দূরে অবস্থিত অযোধ্যার আর এক জনপ্রিয় তীর্থ ক্ষেত্র হনুমানগড়ি মন্দির। রাম মন্দির দর্শনে যাওয়া মানুষ সেখানেও মাথা ঠেকান।
সেই মন্দিরে প্রধান পুরোহিত মহন্ত রাজু দাস বরাবরই ঠোঁট কাটা সাধু হিসাবে পরিচিত। কপিলমুনি আশ্রম হনুমানগড়ি আখড়ার অধীনে থাকায় রাজু দাস সাগর মেলার সময় সাগরদ্বীপে চলে আসেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ রাজ্য প্রশাসনের বহু মানুষের সঙ্গে তাঁর আলাপ পরিচয় আছে।
হারের কারণ অনুসন্ধানে গত শুক্রবার অযোধ্যা বিজেপির নেতারা তাঁকে বৈঠকে ডেকেছিলেন। সার্কিট হাউসে আয়োজিত বৈঠকে দুই মন্ত্রী সূর্য প্রতাপ এবং জয়বীর সিংযও হাজির ছিলেন। মন্ত্রীরা থাকায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাসক নীতীশ কুমারও।
সেই বৈঠকে মহন্ত রাজু দাস অযোধ্যায় হারের জন্য সরাসরি জেলা প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তোলেন। বলেন, এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা না বলে রাস্তা চওড়া করাতে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল অযোধ্যা জুড়ে।
মহন্তের এই কথায় বেজায় চটে যান জেলা শাসক নীতীশ। দু'জনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়ে যায়।
এরপরই তাঁর তিন নিরাপত্তা রক্ষী প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ মহন্ত রাজু দাসের। হনুমানগড়ির প্রধান মহন্ত হওয়ার আগে থেকেই রাজু দাসকে কমান্ডো নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন সময় বিতর্কিত মন্তব্য করায় তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। এমন একজন মানুষের নিরাপত্তা রাতারাতি প্রত্যাহার করায় যোগী প্রশাসনের দিকে আঙুল উঠেছে। যদিও শনিবার লখনউ গিয়ে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী যোগীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে এসেছেন। কিন্তু নিরাপত্তা রক্ষী এখনও পুনর্বহাল হয়নি। উল্টে জেলা শাসক নীতীশ কুমার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, মহন্ত রাজু দাসের নামে গুরুতর অভিযোগে মামলা আছে। এমন ব্যক্তিকে প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে পারে না।
অন্যদিকে, হনুমানগড়ির ওই মহন্তের বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে যে তিনটি মামলা আছে, তেমন মামলা বহু রাজনীতিক, মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও আছে। কই তাঁদের নিরাপত্তা তো প্রত্যাহার করা হয়নি।হ অবশ্য, সাধু, মন্দিরের মহন্তের কেন নিরাপত্তা প্রয়োজন সে প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন রাজু দাস।