শাসক জোট এনডিএ-তেও আসন নিয়ে শরিটি বিবাদ চলছে। তবে মোটের ওপর প্রথম দফায় এনডিএ শরিকেরা জোট ফর্মুলা মেনেই প্রার্থী দিয়েছে।

দুয়ারে ভোট। পাটনায় আরজেডির সদর দফতরে এখনও ব্যস্ততার লেশমাত্র নেই।
শেষ আপডেট: 18 October 2025 08:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাটনার বীর চাঁদ প্যাটেল পথে কয়েক মিটারে ব্যবধানে পাশ দুটি বাংলো। একটি বিজেপি আরেকটি আরজেডির রাজ্য সদর দপ্তর। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তুমুল ব্যস্ততার খুবই স্পষ্ট পদ্ম শিবিরের অফিসে। অন্যদিকে, আরজেডির অফিসে দলীয় প্রতীক লণ্ঠনের একটি বিশাল প্রতিলিপি ছাড়া বোঝার উপায় নেই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের সদর দপ্তর বিধানসভা নির্বাচনে যারা সবচেয়ে বেশি আসনে লড়াই করেছে বিগত কয়েকটি ভোটে। দুই শিবিরের দুই প্রধান দলের সদর দপ্তরের বিপরীত ছবির প্রতিফলন ঘটেছে প্রথম দফার নির্বাচনের প্রার্থী দেওয়াকে কেন্দ্র করে।
বিহারে প্রথম দফার ভোট আগামী ৬ নভেম্বর। সেজন্য মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল শুক্রবার। কিন্তু বোঝাপড়া না হওয়ায় বিরোধী জোটের শরিক দলগুলি নিজেদের ইচ্ছেমতো আসনে প্রার্থী দিয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোট নেওয়া হবে ১১ নভেম্বর। ২০ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। তার আগে কি বিহারে ইন্ডি জোটের শরিকদের মধ্যে আসন বোঝাপড়া চূড়ান্ত হবে? বিহারে বিরোধী শিবিরে এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
শাসক জোট এনডিএ-তেও আসন নিয়ে শরিটি বিবাদ চলছে। তবে মোটের ওপর প্রথম দফায় এনডিএ শরিকেরা জোট ফর্মুলা মেনেই প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোট প্রার্থী দেওয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পৌছাতে পারেনি প্রথম দফার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে।
আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনার জন্য চলতি সপ্তাহে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আরজেডি সুপ্রিমো লালু প্রসাদ যাদবের টেলিফোনে কথা হয়। মনে করা হয়েছিল এই আলোচনার পর দু দলের মধ্যে আসন বোঝাপড়া নিয়ে সমস্যা মিটে যাবে। কিন্তু দুই পার্টিতেই নীচুতলার নেতারা প্রার্থী দেওয়া নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড়। কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কৃষ্ণ ওল্লাভুরু জয় নিশ্চিত এমন ৩০টি আসন নিয়ে দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছেন। কংগ্রেস গতবারের থেকে বারোটি কম আসনে লড়াই এর সিদ্ধান্ত নিলেও তারা দাবি করেছে এমন আসনে হাত শিবির প্রার্থী দেবে যেগুলিতে তাদের জয় নিশ্চিত।
অন্যদিকে, বেশ কয়েকটি আসনে বাম দলগুলি সঙ্গে প্রধান শরিক আরজেডির গোলমাল অব্যাহত। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিবাদ সিপিআইএম লিবারেশনের সঙ্গে। বিহারে মোট আসন ২৪৩। প্রথম দফায় ভোট নেওয়া হবে ১২১ আসনে। লালু প্রসাদ যাদবের দল দুই দফা মিলিয়ে প্রায় ১৩৫টি আসনে লড়াই করতে পারে। সবচেয়ে বেশি আসনে লড়াই করবে আরজেডি-ই।
জানা যাচ্ছে, বিরোধী জোটের সংখ্যার চেয়েও লড়াইয়ের মূল ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে জয়ের সম্ভাবনাযুক্ত আসন নিয়ে কাড়াকাড়ি। বিহারে সিপিআইএমএল লিবারেশন বাম শিবিরের সবচেয়ে বড় দল। তারা কুড়িটি আসনে লড়তে চায়। কিন্তু এমন আসন দাবি করেছে যেগুলিতে প্রার্থী দিতে আগ্রহী আরজেডি এবং কংগ্রেস।
বিহারের রাজনৈতিক মহলের খবর, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাহুল গান্ধী এবং তেজস্বী যাদবের যৌথ পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরে যে উৎসাহ উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিবাদের জেরে তা অনেকটাই এখন স্তিমিত।