
এ বছর মহাকুম্ভ মেলায় প্রয়াগরাজের ত্রিবেণী সঙ্গমে ৬৫ কোটির বেশি পুণ্যার্থী ডুব দিয়েছেন।
শেষ আপডেট: 27 February 2025 11:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাকুম্ভ মেলা শেষ। বুধবার, শিবরাত্রির অমৃতস্নানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হল তিথিনক্ষত্রের মহামিলনে ১৪৪ বছর পর এমন মহাকুম্ভ। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আজ, বৃহস্পতিবার প্রয়াগরাজে গিয়ে সরকারিভাবে মেলা শেষের ঘোষণা করবেন এবং কুম্ভমেলায় সাহায্যকারী সমস্ত কর্মীদের সংবর্ধনা জানাবেন। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছর মহাকুম্ভ মেলায় প্রয়াগরাজের ত্রিবেণী সঙ্গমে ৬৫ কোটির বেশি পুণ্যার্থী ডুব দিয়েছেন।
খোদ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, এই কুম্ভমেলার আয়োজন করে তাঁর রাজ্য ৩ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহ করেছে। ২০১৯ সালের অর্ধকুম্ভের সময় ২৪ কোটি মানুষ এসেছিলেন প্রয়াগরাজে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে রাজ্য সরকার কুম্ভমেলা থেকে আয় করেছিল ১২ হাজার কোটি টাকা। খরচ করেছিল ১০১৭ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১১২ কোটি টাকা ঢেলে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ১.২ লক্ষ কোটি টাকায়। এ বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে যোগী সরকার ৪৫ দিনের এই মহাযজ্ঞে ৭৫০০ কোটি টাকার আয়োজন করে আয় করতে চলেছে ৩ লক্ষ কোটি টাকা।
শিবরাত্রির দিন সঙ্গমে প্রায় দেড় কোটি ভক্ত পুণ্যস্নান করেছেন বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। মেলা শেষে যোগী আদিত্যনাথ সহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই বিশাল কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। যোগী আদিত্যনাথের উপদেষ্টা তথা প্রাক্তন আইএএস অফিসার অবনীশ অবস্তি রাজস্ব আদায়ের চটজলদি হিসাব দিয়ে জানিয়েছেন, যদি জনপ্রতি পুণ্যার্থী মহাকুম্ভের জন্য ৮ হাজার টাকা করে খরচ করে থাকেন, তাহলেই রাজ্যের ভাঁড়ারে ৩.২ লক্ষ কোটি টাকা এসে থাকবে।
যদিও কনফেডারেশ অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স জানিয়েছে, জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা খরচ ধরলেও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ২ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা। এর মধ্যে রয়েছে, হোটেল, গেস্টহাউস, অস্থায়ী ছাউনিতে থাকা, খাবারদাবার, ধর্মকর্মের সামগ্রী বা দশকর্মার জিনিস, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য পরিষেবা বাবদ খরচ। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এই মেলার আয়োজনে ছাউনি নির্মাণে ৬৮ লক্ষ কাঠের গুঁড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতিটি ১০ ফুট উচ্চতার হলেও তার মিলিত দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ২০,৭২৬ কিমি অর্থাৎ প্রয়াগরাজ থেকে ওয়াশিংটন ডিসির থেকে বেশি দূরত্বের।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার সকালে একটি ব্লগ পোস্টে এই মেলার আয়োজনের খুব প্রশংসা করেন। মহাকুম্ভকে ঐক্য-সংহতির মহাযজ্ঞ বলে মোদী লিখেছেন, মহাকুম্ভ শেষ। কয়েকশো বছরের দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে দেশ এক নতুন চেতনায় জেগে উঠে স্বাধীনভাবে শ্বাস নিতে পারে, এরকমই দৃশ্য দেখা গেল ১৩ জানুয়ারি থেকে প্রয়াগরাজে। তিনি আরও বলেন, মহাকুম্ভ হল সেই মিলনমেলা যেখানে ১৪০ কোটি ভারতবাসীর ভক্তিবিশ্বাস এক জায়গায় মিলিত হয়েছিল।