
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 December 2024 14:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের সঞ্জয় গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে হঠাৎ হইচই। এক মহিলা চিল-চিৎকার শুরু করেছিলেন। কারণ ডাক্তারদের কাছে তিনি যা আবেদন করেছিলেন তা মানা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছিলেন তাঁরা। মৃত স্বামীর বীর্য সংরক্ষণের আর্জি ছিল মহিলার। সেই আর্জিতে কার্যত অবাকই হয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বিয়ের মাত্র ৪ মাস হয়েছিল। পথ দুর্ঘটনায় মারা যান জিতেন্দ্র সিং গেহরওয়ার। ময়নাতদন্ত করার জন্য পুলিশ জিতেন্দ্রর দেহ হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল। নিয়মমাফিক তাঁর পরিবারকেও খবর দেওয়া হয়েছিল হাসপাতালে আসার জন্য। তবে জিতেন্দ্রর স্ত্রী হাসপাতালে এসে প্রথমেই ময়নাতদন্তে বাধা দেন। কারণ তিনি মৃত স্বামীর বীর্য সংরক্ষণ করাতে চেয়েছিলেন।
চিকিৎসকদের মহিলা জানিয়েছিলেন, শুধুমাত্র জিতেন্দ্ররই সন্তানের মা হতে চান। তাঁর বীর্য সংরক্ষণ করে ভবিষ্যতে তা ব্যবহার করে পূরণ করতে চান সেই স্বপ্ন। সেই কারণে তাঁর দাবি মানা হোক। কিন্তু ডাক্তাররা তাঁকে জানান, এটা সম্ভব নয়। কেন সম্ভব নয়, সেই ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়। কিন্তু মহিলা মানতে চাননি। তাই কার্যত তিনি হইচই শুরু করেন।
বীর্য সংরক্ষণ করতে হলে কারও মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই করতে হয়। সেই সময় পেরিয়ে গেলে আর তা সম্ভব নয়। হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগ জানায়, সময় পেরিয়ে যাওয়া তো একটা ফ্যাক্টর, তাছাড়া সংরক্ষণ করার জন্য যে যন্ত্রপাতি লাগে, সেটাও তাঁদের কাছে নেই। তাই মহিলার আর্জি মানা কোনওভাবেই সম্ভব ছিল না।
নিজের স্বামীরই সন্তান চেয়েছিলেন স্ত্রী। ভেবেছিলেন তার মধ্যে থেকেই মৃত স্বামীকে বাঁচিয়ে রাখবেন। কিন্তু তা আর সম্ভব নয় জেনেই ভেঙে পড়েন মহিলা। তাঁকে অনেকক্ষণ ধরে বিষয়টি ভাল করে বুঝিয়ে মহিলাকে শান্ত করেন ডাক্তার-নার্সরা। শেষে তিনি স্বামীর ময়নাতদন্তে রাজি হন। তারপর সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জিতেন্দ্রর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।