
শেষ আপডেট: 12 December 2023 10:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশে শিবরাজ সিং চৌহানকে পঞ্চমবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ দিল না বিজেপি। প্রবীণ এই ওবিসি নেতার বিকল্প হিসাবে অন্যান্য অনুন্নত শ্রেণির মুখ মনমোহন যাদবকে বেছে নেওয়া হয়েছে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে।
প্রশ্ন হল ৬৩ বছর বয়সি শিবরাজ এর পর কী করবেন? তাঁকে নিয়ে কী পরিকল্পনা আছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এবং আরএসএসের। শোনা যাচ্ছে, নাগপুরের আরএসএস শীর্ষ নেতৃত্বের বড় ভাবনা আছে মধ্যপ্রদেশের এই নেতাকে নিয়ে। সেই ভাবনা বা পরিকল্পনা থেকেই সফল মুখ্যমন্ত্রীকে পঞ্চমবারের জন্য ওই পদে রাখা হল না।
আরএসএস সূত্রের খবর, দলে এই নেতার অবদান এবং ভাবমূর্তিকে বিবেচনায় রেখেই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য বিকল্প হিসাবে তাঁকে ব্যবহারের পরিকল্পনা আছে সঙ্ঘের। মোদী-শাহের মতো তিনিও সঙ্ঘের শীর্ষ নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
১৬ বছরের বেশি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে শিবরাজ সরকারকে ক্ষমতায় ফেরাতে ব্যর্থ হন শুধু ২০১৮ তে। তাঁর আগেই অবশ্য মধ্যপ্রদেশকে বিমারু রাজ্য বা আর্থিকভাবে দুর্বল জায়গা থেকে টেনে তোলেন। ভোল বদলে দিয়েছেন খরা কবলিত রাজ্যটির চাষবাসের।
সেবার ভোটের পর প্রাক্তন এই মুখ্যমন্ত্রীকে বিজেপি সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি করে। ছত্তিসগড়ের রমন সিংকেও একই পদ দেওয়া হয়। কিন্তু দুজনের কেউই দিল্লির রাজনীতিতে উৎসাহ দেখাননি। মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসকে ভাঙিয়ে এক বছরের মাথায় ক্ষমতায় ফেরেন শিবরাজ।
এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যাওয়ায় তাঁর রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায় কোন খাতে বইয়ে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শিবরাজ বলেছেন, দল যা বলবে, সেটাই মাথা পেতে নেব।
২০০৫ -এ বাবুলাল গৌড়কে সরিয়ে অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আদবানিরা মধ্যপ্রদেশের কুর্সি এগিয়ে দিয়েছিলেন শিবরাজের দিকে। তিনি তখনই ছিলেন পাঁচবারের সাংসদ। শিবরাজ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর গদিচ্যুত গৌড় অনুজের নেতৃত্ব মেনে নিয়ে তাঁর মন্ত্রিসভায় যোগ দেন।
বিজেপির এক নেতার কথায়, যা ২০০৫ এ সম্ভব ছিল তা ২০২৩ এ তা হওয়ার নয়। মনে রাখতে হবে, শিবরাজ চারবারের মুখ্যমন্ত্রী, পাঁচবারের সাংসদ।
বিজেপি সূত্রে খবর, মধ্যপ্রদেশের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে নিয়ে যাওয়া হতে পারে এবং ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করবেন।
একাধিক সূত্রের খবর, ২০২৪ এর ভোট নিয়ে বিজেপি ও আরএসএসের প্ল্যান বি-র মধ্যমণি শিবরাজ। বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবার তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরা নিয়ে নিশ্চিত। কিন্তু কোনও কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ ২৭২ এর কম আসন জোটে সে ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফেরা আটকাতে শিবরাজকে ঘুঁটি করবে গেরুয়া শিবির। তাঁকে প্রধানমন্ত্রী করার কথা বলে বিরোধী শিবিরের ছোট দল গুলির সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবে পদ্ম শিবির। বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের অনেকেই মনে করেন, অটল বিহারী বাজপেয়ীর মতো ওজনদার রাজনৈতিক না হলেও শিবরাজের মধ্যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মতো সবাইকে নিয়ে চলার মানসিকতা আছে।
মধ্যপ্রদেশের এই নেতার বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ নেই। নেই পরিবারতন্ত্র কায়েমের অভিযোগ। হিন্দুত্বের প্রশ্নেও তাঁর বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ির অভিযোগ নেই, যেমন ছিলেন বাজপেয়ী। আর মোদী গুজরাত
মডেল দেখিয়ে ২০১৪ র লোকসভা ভোটে বাজিমাত করেছিলেন। শিবরাজের ঝুলিতেও আছে মধ্যপ্রদেশকে বদলে দেওয়ার উন্নয়ন মডেল। নিজের রাজ্যে যিনি মামা নামেই বেশি জনপ্রিয়।
অনেকেরই মনে থাকবে ২০১৪- র লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসাবে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শিবরাজ এবং প্রয়াত সুষমা স্বরাজেরও নাম ছিল। শেষ মুহূর্তে বাজিমাত করেন মোদী।