
জঙ্গি হানায় নিহত শহিদ জওয়ান আদর্শ নেগি।
শেষ আপডেট: 9 July 2024 23:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩০ এপ্রিলের পর ৭ জুলাই। দু'মাসের ব্যবধানে শহিদ একই পরিবারের দুই সন্তান। ঘটনার জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে সমগ্র পরিবার। শোকে কার্যত পাথর হয়ে গিয়েছেন বাবা-মা।
সরকারের প্রতি সন্তানহারা বাবার আর্জি, "আর কোনও পরিবারের সন্তান যেন এভাবে মারা না যায়! জঙ্গি মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপ নিন।"
আক্ষেপের সুরে বৃদ্ধ বলেন, এলাকায় কাজের সুযোগ নেই। তাই উত্তরাখণ্ডের এই গাড়োয়াল এবং কুমায়ুন থেকে অনেক তরুণই দেশের সেবায় যুক্ত হয়। এবং হামেশাই তাঁদের অনেকে শহিদ হয়ে ফিরে আসে। পুরো পরিবারটা শেষ হয়ে যায়।
সোমবার বিকেলে জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার মাচেদি এলাকায় জঙ্গিরা সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে গ্রেনেড হামলা চালায়। তাতে পাঁচ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আদর্শ নেগি। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছিলেন আদর্শর খুড়তুতো দাদা প্রণয় নেগি। সেনাবাহিনীর লেহতে কর্মরত ছিলেন তিনি।
প্রণয়ের বাবা বলওয়ান্ত সিং নেগি বলেন, "আদর্শ পড়াশোনায় ভাল ছিল। গ্রামের স্কুল থেকে পাশ করার পর গাড়ওয়াল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি করেছিল। শারীরিক দক্ষতা থাকায় সেনাবাহিনীতে চাকরি পেয়েছিল।"
২০১৮ সালে গাড়ওয়াল রাইফেলসে যোগ দিয়েছিলেন আর্দশ নেগি। পরিবারে রয়েছেন বাবা, মা, এক ভাই ও বোন। ভাই চেন্নাইতে কাজ করেন। বোনেরও বিয়ে হয়ে গেছে। বড় সন্তানকে হারিয়ে ফেলার ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না বাবা-মা।
আর্দশর বাবা দলবীর সিং বলেন, ছেলেগুলো সেনায় কাজ পাওয়ার পর পরিবারের অর্থ সমস্যার সুরাহা হয়েছিল। কিন্তু দু'মাসের মধ্যে আমরা পরিবারের দুই সন্তানকে হারালাম। আমাদের এখানে হামেশাই এমন ঘটনা ঘটে। অথচ সরকারি পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।
পরিবার সূত্রে খবর, গত রবিবার ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েচিল বাবা-মায়ের। এর আগে গত মার্চে গ্রামের একটি বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিল সে।