
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 6 May 2024 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশায় নতুন কলেবরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এনডিএ সরকারের দীর্ঘদিনের বন্ধু নবীন পট্টনায়কের বিদায়ের দিন ঘোষণা করে দিলেন রাজ্যে এসে। নিজেকে প্রভু জগন্নাথের সন্তান বলে মোদী বলেন, বিজু জনতা দলের সরকারে মেয়াদ ফুরোচ্ছে ৪ জুন। উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটের সঙ্গেই বিধানসভা ভোটও একসঙ্গে হবে ওড়িশায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই নবীন প্রধানমন্ত্রীর দাবিকে দিবাস্বপ্ন বলে উড়িয়ে দেন।
ব্রহ্মপুরে এক জনসভায় তিনি বলেন, আজ ৬ মে। ৬ জুনের মধ্যে ওড়িশায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন এবং ১০ জুন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে চলেছে। আপনারা লিখে রাখুন, এই প্রথমবার ডাবল ইঞ্জিন সরকার হতে চলেছে ওড়িশায়।
লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর এই প্রথম ওড়িশায় এলেন মোদী। আগামী ১৩ মে থেকে চারদফায় ওড়িশার ২১টি লোকসভা ও ১৪৭টি বিধানসভা আসনে নির্বাচন একসঙ্গে হবে। বিদেশে পড়াশোনা করা নবীন পট্টনায়ককে উপহাসের সুরে বলেন, বিজেপি এমন একজনকে মুখ্যমন্ত্রী করবে, যিনি ওড়িয়া ভাষা ও সংস্কৃতিকে বোঝেন।
কংগ্রেস এবং বিজু জনতা দলকে নিশানা করে ওড়িশার অনুয়ন্ননকেও হাতিয়ার করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, আমি প্রভু জগন্নাথের সন্তান। জগন্নাথদেব কী দেননি এই রাজ্যের জন্য। এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত জল, খনিজ সম্পদ এবং লম্বা সৈকত। কিন্তু কী হয়েছে? রাজ্য ধনী কিন্তু রাজ্যবাসী গরিব।
মোদী তির কংগ্রেস এবং নবীনের দিকে তাক করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে প্রথমে কংগ্রেস এবং তারপর থেকে বিজেডি এই রাজ্য শাসন করেছে। শাসন করেনি, লুটেছে। বিজেডির চুনোপুঁটি নেতাদেরও বিশাল বিশাল বাংলো রয়েছে। কীভাবে হল এসব!
এর আগে এনডিএ-র বন্ধু দলনেতা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে এই ভাষাতে আক্রমণ করতে দেখা যায়নি। এদিন গঞ্জামেও এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ককে বিঁধে মোদী বলেন, কেন তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র হিঞ্জিলি থেকে শয়ে শয়ে মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে চলে যাচ্ছেন? কেন এখানকার হাসপাতালগুলিতে ডাক্তারদের পদ শূন্য পড়ে রয়েছে? বাচ্চারা মাঝপথে স্কুল ছেড়ে দিচ্ছে।
মোদী আরও বলেন, সনিয়া গান্ধীর রিমোট কন্ট্রোলে যখন ১০ বছর ধরে মনমোহন সিং সরকার দিল্লিতে ক্ষমতায় ছিল, তখন ওড়িশাকে দেওয়া হয়েছে ১ লক্ষ কোটি টাকা। মোদী সরকার ১০ বছরে পট্টনায়ক সরকারকে দিয়েছে ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা। সেই টাকায় কী কাজ হয়েছে, প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।