
বাবা সিদ্দিকি।
শেষ আপডেট: 14 October 2024 12:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকির হত্যাকাণ্ডে আততায়ীরা সঙ্গে করে গোলমরিচের গুঁড়ো ভরা স্প্রে-টাইপ ক্যান নিয়ে এসেছিল। কিন্তু, সুযোগের অভাবে তারা তা ব্যবহার করতে পারেনি। মুম্বই পুলিশ এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দুজনকে গ্রেফতার করতে পারলেও তৃতীয়জন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশ সমস্তদিক তদন্ত করে দেখলেও প্রবল অনুমান যে, তোলাবাজ গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের হাত রয়েছে। সন্দেহ, শুধু সলমন খান একা নয়, সিদ্দিকিকে খুনের ছক কষা হয়েছে মুম্বই অন্ধকার জগতের এককালের ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে দহরম-মহরম থাকার জন্য। বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে আকোলা থেকে ধৃত এক দুষ্কৃতী সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছে, দাউদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সিদ্দিকিকে টার্গেট করছে বিষ্ণোইয়ের দল।
মুম্বই পুলিশের অপরাধ দমন বিভাগের ডিসিপি দত্তা নালাওয়াড়ে জানান, ধৃতদের কাছ থেকে দুই পিস্তল এবং ২৮টি কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে। শনিবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার সময় সিদ্দিকিকে গুলি করে খুন করা হয়। তিনি তখন নির্মল নগর থানার কাছে তাঁর ছেলের অফিসের বাইরে ছিলেন। ধৃতদের আদালতে তুলে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।
এদিকে, সিদ্দিকি খুনে অভিযুক্ত ধর্মরাজ কাশ্যপ নাবালক নয়। আদালতের নির্দেশে তার হাড়ের পরীক্ষার পর পুলিশ জানায় সে মোটেই নাবালক নয় এবং সেই মতো আদালত তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের তরফে অভিনেতা সলমন খানের বাড়ি গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকিকে ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়া হলেও কী করে তাঁকে গুলি করে খুন হতে হয় তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও চলছে ভোটের রাজ্যে। তদন্তে জানা গিয়েছে, দুর্বৃত্তরা মাসের পর মাস ধরে সিদ্দিকির চালচলনের উপর নজর রেখেছিল। খুনের কয়েক মাস আগে থেকেই অভিযুক্ত ধর্মরাজ কাশ্যপ, শিবকুমার গৌতং এবং গুরনেল সিং সিদ্দিকির প্রতিটি গতিবিধির উপর নজর রাখত।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই ত্রয়ী বেশ কয়েকবার সিদ্দিকির অফিস ও বাড়িতে রেইকি করেছে। পুলিশের অনুমান, অন্তত দেড় থেকে দুমাস তারা সিদ্দিকির উপর নজর রাখছিল। গ্যাংস্টার বিষ্ণোই এই তিনজনকে আগাম ৫০ হাজার টাকা সুপারি দেয় এবং কাজ হাসিল হওয়ার পর ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তরা সেপ্টেম্বরের গোড়ায় মুম্বই এসে পৌঁছায়। কুরলায় ১৪ হাজার টাকা ভাড়ায় একটি ফ্ল্যাটের বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয় তাদের জন্য। সেখানেই উত্তরপ্রদেশের বহরাইচের বাসিন্দা কাশ্যপ, সিং এবং গৌতমকে সিদ্দিকির বিভিন্ন ছবি দেওয়া হয় চেনানোর জন্য। খুনের ছক কষা হয়েছিল সেপ্টেম্বরের আগেই। ছকের মতোই গৌতম সিদ্দিকিকে ৬টি গুলি করে এবং তিনবার আঘাত করে।
পরিকল্পনা মতো দুর্গা পুজোর ভাসান শোভাযাত্রার সময় গুলি করে তারা ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে যায়। সেই সময় সিদ্দিকির নিরাপত্তা রক্ষীদের বাগে আনতে সঙ্গে করে নিয়ে আসা গোলমরিচের গুঁড়োর স্প্রে তারা চালাতে গিয়েও পারেনি। তারা একটি পার্কে ঢুকে পড়লে পুলিশ তা ঘিরে ফেলে। কিন্তু, গৌতম ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায়। দুষ্কৃতীরা শোভাযাত্রায় ফাটানো বাজির শব্দকে কাজে লাগিয়েছিল।