
শেষ আপডেট: 7 December 2023 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার থেকে লোকসভায় শুরু হয়েছে শীতকালীন অধিবেশন। সেদিনই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এথিক্স কমিটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সংসদে রিপোর্ট জমা পড়েনি। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবারই লোকসভায় রিপোর্ট জমা পড়বে। এমনকী মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজের প্রস্তাবও আনা হবে। এই প্রসঙ্গে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মহুয়াকে লোকসভায় বলতে দিতে হবে।
জানা গেছে, শুক্রবার প্রথমে এথিক্স কমিটি তাদের রিপোর্ট পেশ করবে। তারপরই মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজের প্রস্তাব আনবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আগামীকাল পুরো বিষয়টি আধ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করতে চান স্পিকার ওম বিড়লা। তবে তৃণমূলের বক্তব্য, আলোচনা ছাড়া মহুয়ার বিরুদ্ধে যেন কোনও পদক্ষেপ করা না হয়।
টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন করার অভিযোগের তদন্তে লোকসভার এথিক্স কমিটি মহুয়ার সদস্য পদ খারিজের সুপারিশ করেছে বলে একাধিক সূত্র থেকে আগেই জানা গিয়েছে। এমনকী সেই সম্ভাবনার কথা শোনা গিয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেও। দিন কয়েক আগে মহুয়ার প্রতি অবিচারের অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ওঁকে হয়তো ওঁরা অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করবে। তবে, তাতে মহুয়ার লাভই হবে। সোমবার রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।
শুক্রবার মহুয়ার বিরুদ্ধে রিপোর্ট পেশের ব্যাপারে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমি আজকে যখন স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম তখন উনি আমায় জানান, কালকে মহুয়ার বিষয়টি লোকসভায় আসবে।'
সুদীপের কথায়, তিনি স্পিকারকে জানান মহুয়াকে যেন তাঁর বক্তব্য বলার সুযোগ দেওয়া হয়। স্পিকার তাঁকে কিছু সময় দেবে বলে জানিয়েছেন। যদিও সুদীপের দাবি, কিছু সময় দিলে হবে না ইন্ডিয়া জোটের সব দলেরই এই বিষয়ে বক্তব্য আছে। তা বলতে দেওয়া হোক। যদিও স্পিকার আধ ঘণ্টার মধ্যে পুরো বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চাইছেন।
মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, লোকসভায় প্রশ্ন করার জন্য তিনি নাকি শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে ঘুষ বাবদ নগদ ও নানা ধরনের উপহার নিয়েছেন। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এই ব্যাপারে প্রথম সরব হন। সেই অভিযোগ সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় জাতীয় রাজনীতিতে। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহুয়া। এই অভিযোগের ভিত্তিতে লোকসভার এথিক্স কমিটিও মহুয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত করে।
গত ২ নভেম্বর এথিক্স কমিটি ডেকে পাঠায় মহুয়াকে। সেই বৈঠকের মাঝপথেই মহুয়াকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, কমিটি তাঁকে 'নোংরা' প্রশ্ন করেছে। যা খুবই অপমানজনক। পাল্টা কমিটিও মহুয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। তদন্ত শেষে তারা মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজের সুপারিশ করে। যদিও এই ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামীকাল রিপোর্ট পেশের পরই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।