
অর্জুন রাম মেঘওয়াল
শেষ আপডেট: 17 December 2024 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার লোকসভায় পেশ হয়েছে ‘এক দেশ এক ভোট’ বিল। তবে বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোট এর বিরোধিতায় সরব হয়েছে। এই বিল এখনই বাতিল করার দাবি জানিয়েছে তাঁরা। বিরোধীদের অভিযোগ, দেশের গণতন্ত্র এবং সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত করছে এই বিল। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিরোধীদের এই দাবি অবশ্য পাত্তা দেননি কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। তিনি মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ে লোকসভায় এই বিল পেশ করে তাঁর উপকারিতা ব্যাখ্যা করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, দেশের নির্বাচনী পদ্ধতি সংস্কারের জন্য এই পরিবর্তন আবশ্যিক। আর এই বিল যে দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো বা সংবিধানকে আঘাত করছে না, তাও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
সংসদে ‘এক দেশ এক ভোট’ বিল পেশ করে মেঘওয়াল বলেন, ''নির্বাচনী পদ্ধতি সংস্কার করতে আইন আনা যেতেই পারে। দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে দেবে এই বিল। আর এর দ্বারা ভারতীয় সংবিধান কোনও ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সংবিধানের মূল ভিতও একই থাকবে, তাতে কোনও আঘাত আসবে না।'' একইসঙ্গে তিনি এও আশ্বাস দেন, রাজ্যের ক্ষমতা লঘু করার কোনও অভিপ্রায় নেই কেন্দ্রীয় সরকারের।
বিল পেশের পর কংগ্রেস নেতা মণীশ তিওয়ারি বলেন, এই বিল একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে দেশে। তাই এই বিল দ্রুত সম্ভব বাতিল করা উচিত। অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, সংবিধানের ভিতকেই নড়িয়ে দিচ্ছে এই বিল। কোনও ভাবেই এটি লাগু হওয়া উচিত নয়। তাঁর স্পষ্ট কথা, ব্যক্তিভিত্তিক স্বার্থরক্ষার জন্যই এই বিল আনা হয়েছে।
এই বিলের উপর এখন আলোচনা হলেও সরকার লোকসভায় সেটি পেশ করে তা সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠাতে চলেছে ঐকমত্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যে।
লোকসভা এবং সব বিধানসভার ভোট একত্রে করতে সংবিধানের ৮৩ এবং ১৭২ নম্বর অনুচ্ছেদের সংশোধন করা হবে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ৪৭টি দলের মধ্যে ৩২টি এক দেশ এক ভোটের পক্ষে সায় দিয়েছে। লোকসভা এবং রাজ্যসভায় এখন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তবে সংসদের দুই কক্ষে পাশ করালেই হবে না, দেশের দুই-তৃতীয়াংশ রাজ্যের বিধানসভারও সম্মতি প্রয়োজন নয়া ব্যবস্থার পক্ষে। মোদী সরকার ২০২৯ সালে নির্বাচনের এই নয়া ব্যবস্থা কার্যকর করার কথা বিবেচনা করছে।