লালুপ্রসাদ যাদবকে সশরীরে হাজিরা দিতে না হলেও তাঁর আইনজীবীরা মামলার শুনানি প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন এবং আইনি সওয়াল-জবাব চলবে যথারীতি। কিন্তু কেন এই স্বস্তি?

শেষ আপডেট: 13 April 2026 12:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শারীরিক অবস্থা এবং মামলার প্রেক্ষিত বিচার করে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদবকে বড়সড় স্বস্তি দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court on Lalu Prasad Yadav)। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘জমির বদলে চাকরি’ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় ট্রায়াল কোর্টে সশরীরে হাজিরা (Exemption) দিতে হবে না ৭৭ বছর বয়সি এই নেতাকে (land for jobs case Lalu Yadav relief)।
তবে তাঁর আইনজীবীরা মামলার শুনানি প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন এবং আইনি সওয়াল-জবাব চলবে যথারীতি। কিন্তু কেন এই স্বস্তি?
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানিয়েছে, লালুপ্রসাদ যাদবের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করেই তাঁকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি (Exemption) দেওয়া হয়েছে। তবে সিবিআই-এর দায়ের করা এফআইআর বা তদন্ত বাতিলের যে আর্জি তিনি জানিয়েছিলেন, তা এখনই গ্রহণ করেনি আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, দুর্নীতির মামলার অনুমোদন (Sanction) সংক্রান্ত যে আইনি প্রশ্নগুলো উঠেছে, তা ট্রায়াল বা বিচার প্রক্রিয়ার সঠিক সময়ে বিচার করা হবে।
আইনি বিতর্ক কী নিয়ে?
লালুপ্রসাদ যাদব দাবি করেছিলেন যে, ‘প্রিভেনশন অফ করাপশন অ্যাক্ট’-এর ১৭এ (Section 17A) ধারা অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার আগে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যে আগাম অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল, তা সিবিআই নেয়নি। তবে দিল্লি হাইকোর্ট গত ২৪ মার্চ তাঁর এই আবেদন খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছিল যে, এই আইনটি ২০১৮ সালে কার্যকর হয়েছে, অথচ দুর্নীতির অভিযোগগুলো ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ের। তাই এই আইনি কবচ এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
ঠিক কী অভিযোগ লালুর বিরুদ্ধে?
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে, যখন লালুপ্রসাদ যাদব ইউপিএ সরকারের রেলমন্ত্রী ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় পশ্চিম মধ্য রেলওয়ের জবলপুর জোনে গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের বিনিময়ে চাকরিপ্রার্থীদের থেকে জমি বা উপহার নিয়েছিলেন লালুর পরিবার ও সহযোগীরা। এই অভিযোগে ২০২২ সালের মে মাসে এফআইআর দায়ের করে সিবিআই। এরপর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি থেকে চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে ট্রায়াল কোর্ট।
ভবিষ্যৎ কী?
বর্তমানে লালুপ্রসাদ যাদব জামিনে মুক্ত রয়েছেন এবং আদালতের কাছে নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে আপাতত বারংবার আদালত কক্ষে যাওয়ার শারীরিক ধকল থেকে মুক্তি পেলেন আরজেডি নেতা। তবে সিবিআই-এর চার্জশিট অনুযায়ী দুর্নীতির অভিযোগের বিচার চলবে। অনুমোদন বা স্যাংশন সংক্রান্ত যে আইনি লড়াই, তা বিচার চলাকালীন ট্রায়াল কোর্টেই পেশ করতে হবে লালুর আইনজীবীদের।