
শেষ আপডেট: 3 February 2024 12:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী জমানায় ক্রমশই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছিলেন বিজেপির বর্ষীয়াণ নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী। রাম রথ যাত্রা করে বিজেপিকে মহীরূহে পরিণত করার কাণ্ডারি ছিলেন যিনি, তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল মাগর্দশক মণ্ডলীতে। শেষমেশ গুরুদক্ষিণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
লালকৃষ্ণ আডবাণীকে ভারত রত্ন সম্মানে সম্মানিত করার কথা শনিবার সকালে টুইট করে দেশকে জানালেন প্রধানমন্ত্রী।
I am very happy to share that Shri LK Advani Ji will be conferred the Bharat Ratna. I also spoke to him and congratulated him on being conferred this honour. One of the most respected statesmen of our times, his contribution to the development of India is monumental. His is a… pic.twitter.com/Ya78qjJbPK
— Narendra Modi (@narendramodi) February 3, 2024
এর আগে ২০১৫ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীকে ভারত রত্ন সম্মানে সম্মানিত করেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। বাজপেয়ী অবশ্য ততদিনে চলচ্ছক্তি হারিয়েছিলেন। ৬এ কৃষ্ণ মেনন মার্গে তাঁর সরকারি বাসভবনে গিয়ে বাজপেয়ীকে ভারত রত্ন সম্মান দিয়ে এসেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।
১৯২৭ সালে অভিভক্ত ভারতবর্ষের করাচিতে এক সিন্ধ্রি পরিবারে জন্ম আডবাণীর। করাচির সেন্ট প্যাট্রিক স্কুলে পড়াশুনা। তার পর সিন্ধের হায়দরাবাদে ডিজি ন্যাশনাল কলেজে পড়েছেন। দেশভাগের পর আডবাণীর পরিবার মুম্বইয়ে চলে আসেন। সেখানে আইন নিয়ে স্নাতক করেন আডবাণী।
তবে করাচিতে থাকার সময় থেকে সঙ্ঘ পরিবারের সঙ্গে অনুসঙ্গ গড়ে ওঠে আডবাণীর। নিয়মিত শাখায় যেতেন। পরবর্তীকালে পূর্ণ সময়ের প্রচারক হয়ে যান। ৫১ সালে এ দেশে জনসঙ্ঘ তৈরি হওয়ার পর আডবাণী তাতে সক্রিয় ভাবে জুড়ে যান। জনসঙ্ঘের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এস এস ভাণ্ডারির সচিব ছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে জনসঙ্ঘের দিল্লি শাখার সভাপতি হয়েছিলেন। ১৯৭০ সালে জনসঙ্ঘের প্রতিনিধি হিসাবেই প্রথমবার রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন লালকৃষ্ণ আডবাণী।
ততদিনে জনসঙ্ঘে প্রভাব যথেষ্ট বেড়েছিল। ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা জারি করার পর গ্রেফতার হন তিনি। দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। পরে মুক্তিপান। জরুরি অবস্থার পর জনসঙ্ঘ এবং অন্যান্য আরও কিছু বিরোধী দল মিলে তৈরি হয় জনতা পার্টি। ৭৭ সালের লোকসভা ভোটে স্যুইপ করে এই বিরোধী দল। মোরারজি দেশাই সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী করা হয় আডবাণীকে। ৮০ সালে ফের ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা হন লালকৃষ্ণ আডবাণী।
১৯৮০ সালে বিজেপির প্রতিষ্ঠা হয়। বাজপেয়ীর মতই লালকৃষ্ণ আডবাণী ছিলেন বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তবে ৮৪ সালের লোকসভা ভোটে মাত্র ২টি আসনে জেতে তাঁর দল। কিন্তু সম্ভবত সেটা ছিল আডবাণীর জীবনের টার্নিং পয়েন্টও। আডবাণীকে বিজেপির সভাপতি করা হয়। এবং তার পরই দলের অভিমুখ পুরোপুরি হিন্দুত্বের রাজনীতির দিকে ঘুরিয়ে দেন তিনি। তাঁর রাম রথ যাত্রা শুধু বিজেপির জন্য ফলদায়ী ছিল না, ভারতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও বদলে দেয় আডবাণীর এই কৌশল।
পরবর্তী কালে বাজপেয়ীর নেতৃত্বে সরকার গঠন, আডবাণীর উপ প্রধানমন্ত্রী হওয়া—এসবের স্মৃতি অনেকেরই এখন তাজা। নরেন্দ্র মোদী ছিলেন বরাবরই আডবাণীর পছন্দের নেতা। গুজরাতের গান্ধীনগর থেকে লোকসভায় লড়তেন আডবাণী। শুধু তা গুজরাত দাঙ্গার পর মোদী যখন বাজপেয়ীর রোষানলে পড়েছিলেন, তখন তাঁকে আড়াল করেছিলেন আডবাণীই। সেদিক থেকে এতদিনে গুরুদক্ষিণা দিলেন মোদী। বাজপেয়ীর পর এবার ভারত রত্ন পাবেন বিজেপির মার্গদর্শক।