দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছুদিন আগেই কর্মীদের সপ্তাহে ৯০ ঘণ্টা কাজ করার পরামর্শ দিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন লারসেন অ্যান্ড টুরবো (L and T) সংস্থার চেয়ারম্যান ও সিইও এসএন সুব্রহ্মণ্যম। এবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসের একদিন আগে, ফের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন তিনি। প্রায় ৫,০০০ নারী কর্মীর জন্য এক দিনের বেতন-সহ ঋতুকালীন ছুটি (Menstrual Leave) চালু করার কথা জানাল সংস্থাটি।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই সুবিধা শুধুমাত্র মূল সংস্থা এল অ্যান্ড টি-র নারী কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য। আর্থিক পরিষেবা বা প্রযুক্তি সংক্রান্ত সহযোগী সংস্থার কর্মীরা এর আওতায় থাকছেন না। এর ফলে এল অ্যান্ড টি-র মোট ৬০ হাজার কর্মীর মধ্যে প্রায় ৯ শতাংশ, অর্থাৎ ৫,০০০ নারী কর্মী এই ছুটির সুবিধা পাবেন।
এই ছুটি ঘোষণার কথা সামনে আসার পরে অনেকেরই মনে পড়ে গেছে, এসএন সুব্রহ্মণ্যমের সেই বিতর্কিত মন্তব্য। তিনি বলেছিলেন, কর্মীদের সপ্তাহে ৯০ ঘণ্টা কাজ করা উচিত। সেই সঙ্গে বলেছিলেন, রবিবারও অফিস করার কথা, প্রশ্ন করেছিলেন, 'ঘরে বসে কতক্ষণ আর বৌয়ের মুখ দেখবে?'
তাঁর এই মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় বয়ে গেছিল দেশজুড়ে। সাধারণ মানুষ তো বটেই, অন্যান্য কর্পোরেট সংস্থার মালিকরাও মুখ খুলেছিলেন এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে। বলেছিলেন, ছুটির দিন বাড়িতে থাকার অধিকার সকলেরই রয়েছে এবং সপ্তাহে ৯০ ঘণ্টার কাজও অমানবিক একটা ঘোষণা।
সম্প্রতি সুব্রহ্মণ্যম পিরিয়ড লিভ ঘোষণার পরে অনেকেই বলছেন, সেই বিতর্ককে চাপা দিতেই বা সেই বিতর্কের বিপরীতে কর্মীস্বাচ্ছন্দ্যের বার্তা দিতেই এই ছুটির কথা ভেবেছে এল অ্যান্ড টি। যদিও সংস্থার তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি নারী কর্মীদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই করা পদক্ষেপ।
প্রসঙ্গত, সুইগি, জোম্যাটোর মতো কিছু কোম্পানি ইতিমধ্যেই ঋতুকালীন ছুটির পদক্ষেপ করেছে। কিন্তু দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এই প্রথম এল অ্যান্ড টি এমন ঘোষণা করল। এর আগে বিহার, ওড়িশা, সিকিম ও কেরল সরকার সরকারি কর্মীদের জন্য ঋতুকালীন ছুটির ব্যবস্থা করেছে। এমনকি ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে জাতীয় স্তরে এই বিষয়ে নীতি তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে এল অ্যান্ড টি-র এই সিদ্ধান্ত কর্পোরেট দুনিয়ায় একটি বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে, যা কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রতি সুবিচারের সূচনা করতে পারে।