
শেষ আপডেট: 24 April 2024 19:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'হারকে জিতনেওয়ালে কো বাজিগর কেহতে হ্যায়!'
দল হেরেছে ঠিকই, তবে তিনি জিতেছেন। শুধু জিতেছেন তাই নয়, এমন দুজনকে হারিয়ে জিতেছেন, তাতে শাহরুখের সেই বিখ্যাত সংলাপ ধরলে বাজিগর ছাড়া আর কীই বা বলা যায় তাঁকে!
হিন্দি বলয়ে গেরুয়া ঝড় উঠেছে। কংগ্রেসকে হারিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তীসগড় , তিনটি রাজ্যেই বিপুল জয় পেয়েছে বিজেপি। হিসেব উল্টেছে তেলঙ্গানায়। সেখানে আঞ্চলিক দল কে চন্দ্রশেখর রাও-এর ভারত রাষ্ট্র সমিতিকে গদিচ্যুত করে প্রথমবারের জন্য ক্ষমতায় আসতে চলেছে কংগ্রেস। দক্ষিণের এই রাজ্যটিতে বিআরএস এবং কংগ্রেসের যুযুধান লড়াইয়ে ধর্তব্যের মধ্যেই নেই বিজেপি। কিন্তু তার মধ্যেও নজর কেড়েছেন গেরুয়া শিবিরেরই এক সেনাপতি। চূড়ান্ত ফল ঘোষণা না হলেও এখনও পর্যন্ত যে ছবি ধরা পড়ছে, তাতে স্পষ্ট, তেলঙ্গানার আগত এবং বিদায়ী দুই মুখ্যমন্ত্রীকেই পরাস্ত করতে চলেছেন তিনি।
তিনি হলেন কাতিপল্লি ভেঙ্কট রামন রেড্ডি। কেসিআর-এর রাজ্যে পদ্ম শিবিরের এই নেতা কেভিআর নামেই পরিচিত। তেলঙ্গানার হেভিওয়েট বিধানসভা কেন্দ্র কামারেড্ডি আসনে কংগ্রেস এবং বিআরএস দুই দলকেই পিছনে ফেলে এগিয়ে গেছেন তিনি। এই আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিআরএস প্রধান কে চন্দ্রশেখর রাও এবং রাজ্য কংগ্রেসের প্রধান তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এ রেবন্ত রেড্ডি।
কেসিআরের বিদায় নিশ্চিত হতেই তেলঙ্গানার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হতে পারেন তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে চার রাজ্যেই কোনও মুখ্যমন্ত্রী মুখ ঘোষণা করেনি হাত কিংবা পদ্ম শিবির। বিজেপি লড়েছে মোদীকে মুখ করে, অন্যদিকে কংগ্রেসের তুরুপের তাস ছিলেন রাহুল গান্ধী। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, সম্ভবত এ রেবন্ত রেড্ডিই দক্ষিণের এই রাজ্যটিতে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে চলেছেন। তবে যেহেতু কেভিআরের কাছে তাঁর হার একপ্রকার নিশ্চিত, তাই আগামী ছয় মাসের মধ্যে তাঁকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে।
তবে দুই প্রবল পরাক্রমী প্রতিপক্ষকে বধ করে রাতারাতি নজরে চলে এসেছেন কেভিআর। ৫৩ বছর বয়সি কাতিপল্লি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৪৯ কোটি টাকা। তিনি সন্ধ্যা ৬.৪০ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী ৫৩ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। সে জায়গায় কেসিআর পেয়েছেন ৫০ হাজারের কিছু বেশি ভোট। তবে কামারেড্ডি আসনে পিছিয়ে পড়লেও গজওয়েল আসনে তিনি এগিয়ে রয়েছেন।
কংগ্রেসের রেড্ডি কামারেড্ডি আসনে এগিয়ে রয়েছেন ৪৮ হাজারের সামান্য বেশি ভোটে। তবে দ্বিতীয় আসন কোদাঙ্গলে তিনিই জয়ী। তেলঙ্গানার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি তেমন সুবিধা করতে না পারলেও সে রাজ্যে বিজেপির সংগঠন মজবুত করতে কেভিআর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছেন বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।