মণিপুরে অশান্তির ছবি
শেষ আপডেট: 8 March 2025 16:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্র নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও লাভের লাভ কিছুই হল না। উল্টে শনিবার থেকে মণিপুরে (Manipur) নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবন ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে শান্তি ফেরার কোনও লক্ষণ এখনই চোখে পড়ছে না।
শনিবার সকালেই মণিপুরের নাগরিকদের জন্য বাস পরিষেবা (Bus Service) চালুর কথা থাকলেও বেধে যায় গণ্ডগোল। একেবারে বাস আটকে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে কুকি জনগোষ্ঠীর সমর্থকরা (Kuki Protestors)। তাঁদের দাবিদাওয়া না মানলে অশান্তি চলবে বলেই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ইম্ফল থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কাংপোকপি জেলায় যাত্রীবোঝাই বাস আটকে চলে বিক্ষোভ। সাতসকালে রাস্তায় বসে প্রতে দেখা যায় কুকি গোষ্ঠীর মহিলা সদস্যদের। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে নেমে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জ করতে হয় বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে সেই ঘটনার ছবি একাধিক সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
তবে আগেভাগে সংঘর্ষ বিরোধী চুক্তিতে সই করলেও কুকি গোষ্ঠীর দাবি, কেন্দ্র তাদের জন্য পৃথক প্রশাসনের ব্যবস্থা করুক। তবেই শান্ত হবে মণিপুর। নাহলে বিক্ষোভ চলবে। মেইতেইদের পাল্টা অভিযোগ, মণিপুরের অন্দরেই নিজেদের কতৃত্ব কায়েম করতে ইতিমধ্যে কুকিদের নিয়ম কানুন তৈরি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এন বীরেন সিং পদত্যাগের পর এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে মণিপুরে। যদিও আগেভাগেই কেন্দ্রের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কোনওভাবেই রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখানো যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে মণিপুরের একাধিক এলাকায় বিক্ষোভে সামিল হয়েছে কুকি ও মেইতেই গোষ্ঠীর সদস্যরা। বিভিন্ন জায়গা থেকে হিংসার ছবি সামনে আসছে। সে গাড়িতে পাথর ছোড়াই হোক বা টায়ার জ্বালানো, এমনকি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গেও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের।
২০২৩ সালের মে মাস থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে মেইতেই এবং কুকি দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে। এখনও পর্যন্ত সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘরছাড়া হতে হয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষকে।