ভারত সরকার ২০১৯ সালে 'কোলাপুরি চপ্পল'-কে জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন ট্যাগ দেয়। এটি মহারাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও হাজার বছরের কৌশলগত হস্তশিল্পের ধারাবাহিকতার প্রতীক।

শেষ আপডেট: 28 June 2025 18:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ববিখ্যাত ইতালিয়ান ফ্যাশন ব্র্যান্ড প্রাডা (Prada) অবশেষে জানাল, তাদের ২০২৬ সালের স্প্রিং-সামার মেন’স ফ্যাশন শোয়ে প্রদর্শিত লেদার স্যান্ডেলগুলি আদতে ভারতীয় কারিগরদের হাতে তৈরি ‘কোলাপুরি চপ্পল’-এর অনুপ্রেরণাতেই তৈরি।
এতদিন পর্যন্ত ওই ডিজাইনগুলিক শুধু ‘লেদার স্যান্ডাল’ বলেই উল্লেখ করেছিল প্রাডা। কোনও জায়গায় ভারতীয় বা মহারাষ্ট্রের ঐতিহ্যের উল্লেখ ছিল না — যা ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক, এবং ভারতীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
প্রসঙ্গত, কোলাপুরি চপ্পল জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত। সেই ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে এই বিতর্কের মাঝে মহারাষ্ট্র চেম্বার অফ কমার্স, ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার (MACCIA) চিঠি পাঠায় প্রাডা-কে।
MACCIA-র সভাপতি ললিত গান্ধী বলেন, ‘কোলাপুরি চপ্পল আমাদের সংস্কৃতির পরিচয়। আমাদের চাওয়া, আন্তর্জাতিকভাবে তার যথাযথ স্বীকৃতি হোক — কেবল অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার নয়।’
চিঠিতে MACCIA জানায়, তারা চান স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে প্রাডা-র সহযোগিতা হোক, এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। এছাড়াও তারা দাবি করে, নৈতিক ফ্যাশন প্র্যাকটিস মেনে চলার এবং ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানানো হোক।
প্রাডার কী প্রতিক্রিয়া?
MACCIA-র চিঠির উত্তরে প্রাডার CSR প্রধান লরেঞ্জো বেরতেল্লি বলেন, ‘আমরা স্বীকার করছি, আমাদের সাম্প্রতিক ফ্যাশন শোয়ের স্যান্ডেলগুলি হাতে তৈরি ভারতীয় চপ্পল, বিশেষ করে ‘কোলাপুরি চপ্পল’ থেকে অনুপ্রাণিত। আমরা এই ঐতিহ্যের গুরুত্ব বুঝি এবং স্থানীয় কারিগরদের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী।’
তিনি আরও জানান, এই ডিজাইনগুলি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদনের পক্ষে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারত সরকার ২০১৯ সালে 'কোলাপুরি চপ্পল'-কে জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (Geographical Indication - GI) ট্যাগ দেয়। এটি মহারাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও হাজার বছরের কৌশলগত হস্তশিল্পের ধারাবাহিকতার প্রতীক। এই চপ্পলের পেছনে হাজার হাজার কারিগর ও তাঁদের পরিবারের জীবিকা জড়িয়ে আছে।
এই ঘটনার পরে, বিজেপি সাংসদ ধনঞ্জয় মহাডিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ-এর সঙ্গে একদল কারিগরকে নিয়ে দেখা করেন এবং GI অধিকারের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ চান।
মহারাষ্ট্রের দাবি, বিশ্বের ফ্যাশন হাউসগুলো বিভিন্ন সংস্কৃতি থেকেই অনুপ্রেরণা নেয়। কিন্তু যদি সেই অনুপ্রেরণা কেবল বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হয় অথচ মূল কারিগরদের কোনও স্বীকৃতি, সম্মান বা পার্টনারশিপ না থাকে — তাহলে সেটি সাংস্কৃতিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।