.jpeg)
রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়্গে।
শেষ আপডেট: 30 November 2024 08:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানার পর মহারাষ্ট্র বিধানসভার ভোটে ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেসের। হরিয়ানায় জেতা ম্যাচ হেরে ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের সমালোচনার মুখে পড়েছিল কংগ্রেস। মহারাষ্ট্রে খারাপ ফলের পর জোটের নেতৃত্ব নিয়েও শরিকি কটাক্ষের মুখে পড়েছে হাত শিবির।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দুই রাজ্য দলের হতাশাব্যাঞ্জক ফলের দায় রাজ্য নেতৃত্বের ঘাড়ে চাপাল কংগ্রেস হাই কমান্ড। দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের কথায়, লোকসভা নির্বাচনে দল ঘুরে দাঁড়ালেও দুই রাজ্যের ফল অপ্রত্যাশীত এবং হতাশাজনক। খাড়্গের কথায়, এর মূল প্রধানতম কারণ কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বিলম্ব এবং দলীয় কোন্দল।
বৈঠকে রাহুল গান্ধী হাজির থাকলেও তিনি বিশেষ কিছু বলেননি। দলের একাংশ মনে করে, মহারাষ্ট্রে রাহুলের কাস্ট সেন্সাসের দাবি মানুষ গ্রহণ করেনি। কংগ্রেসের ওই প্রতিশ্রুতির মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘এক রহে তো সেফ রহে’ স্লোগান অনেক বেশি কার্যকর হয়েছে বলে মনে করেন বহু নেতা। মোদীর ওই স্লোগানকে কাউন্টার করতে ব্যর্থ হয় কংগ্রেস।
মহারাষ্ট্র এবং ঝাড়খণ্ডের প্রচারে রাহুল গান্ধী তেমন গা ঘামাননি বলেও দলে আলোচনা আছে। তিনি ওয়ানাডের উপ নির্বাচনে বোন প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর হয়ে প্রচারে বেশি সময় দিয়েছেন বলে দুই রাজ্যেই প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের একাংশের মত। বলাইবাহুল্য বৈঠকে খাড়্গে প্রচারের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন।
দলীয় কোন্দল বেশি ছিল হরিয়ানায়। সেখানে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রত্যাশী ছিলেন কুমারী শৈলজা, ভুপিন্দর সিং হুডা এবং রণদীপ সুরজেওয়ালা। তিনজনই প্রচারে নিজেদের ভাবী মুখ্যমন্ত্রী বলে দাবি করেন। মহারাষ্ট্রে দলীয় কোন্দলের চেয়েও বেশি ছিল মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে শরিকি বিবাদ। কংগ্রেস হাই কমান্ডের মতে, মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতাদের এই বিবাদ থেকে নিজেদের দূরে রাখা উচিত ছিল।
হরিয়ানায় কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরতে না পারলেও ভোট এবং আসন কম পায়নি। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রে দলের কার্যত বিপর্যয় হয়েছে। ১১০টি আসনে লড়াই করে কংগ্রেস জিতেছে মাত্র ১৬টিতে। ২০১৯-এ পেয়েছিল ৪৪টি আসন। লোকসভা ভোটের থেকেও খারাপ ফল হয়েছে বিধানসভায়।
শুক্রবার রাতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে খাড়্গে রাজ্য নেতাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপর নির্ভরতা কমানোর বার্তা দেন। বলেন, সব রাজ্য নেতৃত্বকে আর আগে ভোটের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। সর্ব ভারতীয় নেতৃত্বের মুখ চেয়ে বসে থাকলে হবে না।