
জর্জ ক্যুরিয়েন
শেষ আপডেট: 10 June 2024 11:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তামিলনাড়ু এবং কেরলে খাতা খোলা এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিশেষ লক্ষ্য ছিল বিজেপির। ডিএমকে পরিচালিত তামিলভূমে লক্ষ্য পূরণ না হলেও সিপিএম পরিচালিত কেরলে একটি আসনে জয়ী হয়েছে পদ্ম শিবির। বিজয়ী সুরেশ গোপীকে তাঁর মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী করেছেন মোদী। কিন্তু অবাক করেছে এক সাংসদের রাজ্য কেরল থেকে দু’জন মন্ত্রী হওয়ায়।
প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় নাম আছে কেরলের জর্জ ক্যুরিয়েনেরও। যিনি লোকসভা ভোটে লড়াই করেননি। ফলে জয়-পরাজয়ের প্রশ্ন নেই। রাজ্যসভারও সদস্য নন। রবিবার নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে একমাত্র জর্জ ক্যুরিয়েনই সংসদের কোনও সদনের সদস্য নন। ছয়মাসের মধ্যে তাঁকে রাজ্যসভার সদস্য করে আনা হবে কোনও রাজ্য থেকে।
প্রশ্ন হল, বছর বাষোট্টির ক্যুরিয়েনকে মোদী এবং বিজেপি নেতৃত্ব এত গুরুত্ব কেন দিলেন। আসলে ক্যুরিয়েন হলেন কেরলে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সমাজে বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ মুখ। আজ নয়, ১৯৮০-তে বিজেপি তৈরির সময় থেকে তিনি পদ্ম শিবিরের সঙ্গে আছেন। গোড়ায় তরুণ ক্যুরিয়েনকে এ নিয়ে খ্রিস্টান সমাজের মধ্যেই নানা বাধা বিপত্তির মুখে পড়তে হয়। অনেকে অবাকও হয়েছেন। কারণ আরএসএসকে সামনে রেখে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে তখন গেরুয়া শিবিরের বিবাদ লেগেই থাকত। ক্যুরিয়েন কবু বিজেপির সঙ্গ ছাড়েননি। এমনকী বিজেপি তথা হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে খ্রিস্টান ও মুসলিমদের উপর হামলার ঘটনাতেও তিনি কখনও দলকে অস্বস্তিতে ফেলেননি বিরূপ মন্তব্য করে।
নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বিজেপি কেরলে সংখ্যালঘুদের নিয়ে তাদের কৌশল পরিবর্তন করে। এই রাজ্যে মুসলিম ও খ্রিস্টানরা মূলত সিপিএম এবং কংগ্রেসকেই সমর্থন করে আসছিল। মোদীর আসার পর খ্রিস্টান সমাজের সঙ্গে সখ্য বাড়ানোর নির্দেশ দেন দলকে।
ফলে জর্জ ক্যুরিয়েনের গুরুত্ব আরও বাড়তে থাকে। বর্তমানে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি ক্যুরিয়েন দলের সংখ্যালঘু মোর্চার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এর আগে তিনি রাজ্যে মোর্চার সভাপতি ছিলেন। ছিলেন জাতীয় সংখ্যালঘু মোর্চার ভাইস চেয়ারম্যান। সরকারি সংস্থা জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনেরও ভাইস চেয়ারম্যান পদে আছেন ক্যুরিয়েন। একটা সময় বিজেপির জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য ছিলেন।
নরেন্দ্র মোদী কেরলে দলের প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্যে একটি কোর টিম গঠন করেছেন। যারা প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। সেই কমিটির অন্যতম সদস্য ক্যুরিয়েন কেরলে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের টকিং পয়েন্ট তৈরির পাশাপাশি বিজেপির মঞ্চে মোদীর হিন্দি ভাষণ মালওয়ালিতে তর্জমা করেছেন এতদিন। মনে করা হচ্ছে, কেরলে খ্রিস্টান সমাজকে সিপিএম এবং কংগ্রেসের কবল মুক্ত করতেই বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হল সংখ্যালঘু মুখকে। তাই একটি আসন জেতা কেরলকে দুটি মন্ত্রী পদ দিয়েছেন মোদী।