
রঞ্জিত বালকৃষ্ণন ও শ্রীলেখা মিত্র।
শেষ আপডেট: 27 August 2024 11:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে অভিযুক্ত মলিউড পরিচালক রঞ্জিত বালকৃষ্ণনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল কেরালা পুলিশ। বাঙালি অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রই করেছেন এই এফআইআর।
প্রসঙ্গত, মলিউডে পুরুষ অভিনেতাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যৌন হয়রানির একের পর এক অভিযোগ উঠছে গত কয়েকদিন ধরেই। সংবাদ মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভূরিভূরি বক্তব্য ঘুরছে। কিন্তু এবার প্রথম শ্রীলেখা মিত্রর হাত ধরে কোচি শহরের পুলিশ কমিশনারের কাছে দায়ের হল লিখিত অভিযোগ, রুজু হল মামলাও।
ইমেলের মাধ্যমে পুলিশের কাছে এফআইআর করে শ্রীলেখা অভিযোগ করেছেন, যে ২০০৯ সালে ‘পালেরি মানিক্যম’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর পরে অভিনেত্রীকে আপত্তিজনক ভাবে স্পর্শ করেছিলেন পরিচালক রঞ্জিত। কোচি পুলিশ কমিশনার এস শ্যামসুন্দর অভিযোগ পাওয়ার পরে জানিয়েছেন, আইপিসি ৩৫৪ ধারায় (শ্লীলতাহানির উদ্দেশে বল প্রয়োগ) একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
শ্রীলেখা মিত্র কয়েকদিন আগেই মালয়ালম সিনেমা জগতের এই অপমান ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন। এর পরে একের পর এক অভিনেত্রীও সেই অভিযোগের সপক্ষে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। যার ফলে গোটা চলচ্চিত্র দুনিয়ার অন্দরের কুৎসিত চেহারাটা বেআব্রু হয়ে পড়েছে।
শ্রীলেখা অভিযোগ করেব, “রঞ্জিত আমাকে ডেকে নিয়ে যান ওঁর বেডরুমের দিকে, ছবি নিয়ে কথা বলবেন বলে। ঘরটি বেশ অন্ধকার ছিল, আমি ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিলাম। হঠাৎ আমার হাতের চুড়িগুলি নিয়ে খেলতে শুরু করলেন পরিচালক। ওঁর সঙ্গে এমন কোনও সম্পর্কে আমার ছিল না, ফলে আমার অস্বস্তি হচ্ছিল। কিন্তু আমি তখনই বাধা দিতে পারিনি, কারণ নিশ্চিত হতে পারছিলাম না যে সত্যিই এমনটা ঘটতে চলেছে। এর পরে উনি আমার ঘাড়ে ও চুলে হাত দিতে শুরু করেন। সঙ্গে সঙ্গে আমি সেই ঘর থেকে বেরিয়ে যাই।”
অভিযোগের স্রোতের মুখে কেরলের চলচ্চিত্র অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন পরিচালক রঞ্জিত। একইভাবে কেরলের অ্যাসিয়েশন অফ মালয়ালম মুভি আর্টিস্টসের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অভিনেতা সিদ্দিক। এই সংগঠনই মলিউডের সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী কেন্দ্র।
ভিকটিমদের অভিযোগের মুখে রঞ্জিত অবশ্য বলেছেন, যে তিনিই এই মামলার 'আসল ভিকটিম'।
সম্প্রতি হেমা কমিটির রিপোর্টে মালয়ালম সিনেমা শিল্পের অন্তরালে দিনের পর দিন চলতে থাকা মহিলা শিল্পীদের উপর প্রভাবশালী নায়ক, পরিচালক, প্রযোজক এবং চিত্রগ্রাহকদের যৌন হেনস্থার জ্বলন্ত সত্য চোখের সামনে চলে এসেছে।
শুধু শ্রীলেখা নন, এই নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন তরুণী অভিনেতা রেবতী সম্পতও। সিদ্দিককে তিনি কট্টর অপরাধী বলে অভিযোগে বলেছেন। ২০১৬ সালে সিদ্দিক তাঁর যৌন নিগ্রহ করেন বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, 'সিদ্দিক সিটি সেন্টারে আমাকে বিখ্যাত হোটেলে আমন্ত্রণ জানান। সিনেমা নিয়ে আলোচনার জন্য ডেকে পাঠান। সেখানে ঢুকতেই উনি দরজা বন্ধ করে দেন আমার শারীরিক হেনস্থা করেন। আমি যখন বিধ্বস্ত অবস্থায় ঘর ছাড়ি তখন ওনাকে বলি, আমি সকলকে বলে দেব। এর জবাবে তিনি বলেন, তোমার কথা কে বিশ্বাস করবে, কে চেনে তোমায়, একটা ছবিতে অভিনয় করেছো এখনও?'
আর এক অভিনেত্রী মিনু মুনির সোমবার প্রখ্যাত তারকা এম মুকেশ এবং জয়সূর্যের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন। ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'মুকেশ, মনিয়ানপিল্লা রাজু, ইডাবেলা বাবু এবং জয়সূর্য শারীরিক ও মানসিকভাবে তাঁকে হেনস্তা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৩ সালে একটি সিনেমার শ্যুটিং সেটে। তিনি এনডিটিভিকে বলেন, আমি বাথরুম থেকে বেরোতেই জয়সূর্য পিছন থেকে আমাকে জাপটে ধরেন। এবং আচমকাই আমায় চুমু খান। এইভাবে এই চারজন দফায় দফায় তাঁর শারীরিক হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ করেছেন মুনির।'
গীতা বিজয়ন নামে আর একজন অভিনেত্রী পরিচালক তুলসীদাসের বিরুদ্ধে আপত্তিজনক আচরণের অভিযোগ এনেছেন। বিচারপতি কে হেমা কমিটির রিপোর্টের পর সরকার পদক্ষেপ করেছে। দুই বিশিষ্ট লোকের ইস্তফার পর কেরল সরকার সাত সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করে। আইজির নেতৃত্বে এই টিমে রাখা হয়েছে চার মহিলা আইপিএসকে।