
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 May 2025 13:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০ মার্চ সন্তোষের প্রথম পোস্ট ছিল, ‘টার্গেটকে হিট করার টাস্ক তাড়াতাড়ি শেষ হবে।’ সঙ্গে বন্দুক-সহ নিজের একটা ছবি। সেই সন্ধেবেলাই আরেকটা পোস্ট হয় ফেসবুকে, ‘আমি তোকে বলেছিলাম ওর থেকে দূরে থাকতে। আমার জান যায় যাক, আমি তোকে ক্ষমা করব না।’ অর্থাৎ, সে যা বলছিল, তা করে দেখিয়েছে। বলে বলে গুলি করে খুন করার মতো নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের কান্নুর জেলায়।
স্থানীয় বিজেপি নেতা কে কে রাধাকৃষ্ণনকে খুনের পরপরই গ্রেফতার করা হয় এন কে সন্তোষকে। তার ঠিক ৪১ দিন বাদে খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আরও একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে আর কেউ নয়, মৃত রাধাকৃষ্ণনের স্ত্রী মিনি নাম্বিয়ারকে। আগে তিনি বিজেপির জেলা কমিটির সদস্যও ছিলেন। তার দুই ছেলেও রয়েছে। একজন কলেজপড়ুয়া, একজন এখনও স্কুলে।
পুলিশ জানিয়েছে, অবিবাহিত সন্তোষের সঙ্গে রাধাকৃষ্ণনের স্ত্রী মিনি প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। স্বামীর থেকে দূরে থাকবেন বলে আলাদা বাড়িও বানাচ্ছিলেন মিনি। সেই বাড়িতেই প্রেমিকের হাতে খুন হলেন স্বামী।
তদন্তকারী অফিসার জানান, ‘সন্তোষের ফেসবুক পোস্ট দেখে বোঝা যাচ্ছে সে ঠিক করেই নিয়েছিল এমন কিছু ঘটবেই। প্রেমিকার সঙ্গে থাকতে চেয়েছিল সে। ওদের চ্যাট থেকে জানা গেছে যে তারা একসঙ্গে থাকতে চায় কিন্তু রাধাকৃষ্ণন ওদের একসঙ্গে থাকতে দিতে রাজি নয়। চ্যাট থেকে এও জানা গেছে যে সন্তোষ খুনের প্ল্যানের ব্যাপারে মিনিকে জানিয়েছিল। কিন্তু মিনি তার স্বামীকে এই নিয়ে কিছু জানায়নি।’
পুলিশ জানিয়েছে, খুনের ঘটনার পর মিনি তার সমস্ত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ডিলিট করে দেয়। এমনকি সন্তোষের নামও মুছে দেয় ফোন থেকে। সন্তোষের ফোন হেফাজতে নেওয়ার পর সেখান থেকে সমস্ত তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মিনির পোস্ট করা রিলে লাইক করা থেকে সন্তোষের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের সূত্রপাত। সেই সম্পর্ক ঘিরেই সম্প্রতি রাধাকৃষ্ণন ও মিনির সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। স্বামী সন্দেহ করায় মিনি জানায় তারা একসঙ্গে পড়ত এবং রিইউনিয়নে তাদের দেখা হয়েছিল। এই নিয়ে পুলিশে অভিযোগও জানিয়েছিল রাধাকৃষ্ণন।
সন্তোষ মিনির মায়ের কাছেও প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিল যে সে তাঁর মেয়েকে বিয়ে করতে চায়। এদিকে মিনিও বাড়িতে দুই ছেলেকে তার নতুন করে বিয়ের কথা জানিয়ে রেখেছিল। ইতিমধ্যে মায়ের সঙ্গে মিনি অন্যত্র থাকতে শুরু করে। মায়ের নামে যে জমি ছিল সেখানে বাড়ি বানানোও শুরু হয়। সেই বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্বে ছিল সন্তোষ।
পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির জন্যই টাকা নিয়ে টানাটানি হওয়ায় লোনের দরকার পড়ে। রাধাকৃষ্ণন স্ত্রীর সঙ্গে মিলে লোন তুলে দিতে রাজি হয়। পরিবর্তে প্রস্তাব রাখে, সন্তোষকে সেখান থেকে সরে যেতে হবে। ওই বাড়ির কাজ চলার সময়ই সন্তোষের হাতে মৃত্যু হল রাধাকৃষ্ণনের।